শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / কবিতা / নিবন্ধ

সোনালী শৈশব

Author

মো বিপ্লব হাসান

প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ২৯ বার

আমার ধুলিমাখা এই দেহ,

ঘামে ভিজে যাওয়া দুপুর।

আমি শশকের মতো ব্যস্ত,

দেখিনি কখন হয়েছে সূর্যাস্ত।

আমি ছুটেছি পাখির পিছু পিছু,

খেয়েছি মায়ের পিটুনি।

এক ডুবে সাঁতরে উঠেছি ওপর পাড়ে,

ক্লান্ত কখনো হইনি।

গ্রীষ্মের আম–জাম থলিতে নিয়েছি খুব,

কেউ দেখবে এই ভয়ে ঝোপে দিয়েছি ডুব।

হালের চাষে ধরেছি আমি মাছ,

সারা দেহে কাদা মেখে সেজেছি ভূতরাজ।

গোল্লাছুট, চিবুড়ি, জুতোর চোরের মতো খেলা,

খেলতে খেলতে কখন জানি ডেকেছি সাজবেলা।

এক মুঠো চাল আর কিছু ডাল—সঙ্গে বন্ধুজন,

সবাই মিলে আনন্দে করি বনভোজন।

সন্ধেবেলা আড্ডাঘর, রূপকথার কাহিনি,

কল্পনাগুলো আমার মাথার ওপর হয়েছে ছাউনি।

আমি আজ হয়েছি বড়,

দেখেছি ভুবনের নানা সাজ।

পূর্ণতা পেয়েছে শৈশবের স্বপ্ন,

তবু কেন অপূর্ণ মনে করি নিজেকে আজ?

আমি ক্লান্ত—হয়েছি শান্ত,

হাসিভরা মুখ লুকিয়ে রাখি।

কে কি বলবে, কে কি ভাববে—তা ভেবে রাত জাগি।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশ্বে লেগেছে অগ্রগতির হাওয়া,

নবদিগন্তের আভাস পেয়ে বেড়েছে মনের চাওয়া।

সবাই এখন সবার মতো একা একা চলে,

জাদুর বাক্স হাতে নিয়ে—সব কিনবে নানা ছলে।

পুকুরের পাড়ে বটের তলে সবার ছিল মিলনমেলা,

দুঃখ–কষ্ট, মনের যত—ভাসাই দিতাম ভেলা।

কিসের মায়ায় জড়াই এখন?

ভুললাম সেই দিন—

বিভক্তির দেয়াল তৈরি করে চাপা দিল ঋণ।

মাঠে–ঘাটে খেলে কত শিশু—দেখি চেয়ে তাতে,

বন্ধু আমার, কই গেলি?

সব চল হামাগুড়ি দেয় শৈশবে।

লেখক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!