শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

অধিকার নয়, বৈষম্যের হাতিয়ার পোষ্য কোটা

Author

মোহাম্মাদ আশিক , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পাঠ: ৩৮ বার

  • অধিকার নয়, বৈষম্যের হাতিয়ার পোষ্য কোটা

বর্তমানে গত কয়েকদিন ধরেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঘোলাটে, ৫ ই আগষ্টের ২০২৪ কোটা আন্দোলন কে কেন্দ্র করে গণঅভ্যুত্থান এর পর ১ বছর না পেরতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কিছু শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অযৌক্তিক পোষ্য কোটা নিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেন যা শিক্ষক সমাজের জন্য বিষম লজ্জার। এরই মধ্যে চলছে রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা। প্রথম দফায় প্রশাসন পোষ্য কোটা মীমাংসিত ইসু বলে তা বাতিল করে দিলেও রাকসু সন্নিকটে আসায় আবার পূণরায় পোষ্য কোটা কে ইসু করে ট্রামকার্ড হিসেবে

ব্যবহার করে শেষ চাল টা দিয়ে দেয় প্রশাসন। এখন রাকসু ও পোষ্য কোটা বাতিল দু-টাই ধোঁয়াশায়। পোষ্য কোটা বাতিল করে বৈষম্য দুর করা ও রাকসু নির্বাচন হওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকার। পোষ্য কোটা শিক্ষার্থীদের সাদা কাগজে একটি কালো দাগ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলভিত্তি হল ন্যায়, সমতা ও মেধার যথাযথ স্বীকৃতি। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তম্ভের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজে যোগ্যতার প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষতার চূড়ান্ত প্রতিফলন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার ভেতরে এখনও একটি অযৌক্তিক প্রথা বিদ্যমান, যার নাম পোষ্য কোটা। এ প্রথা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায় ফেল করেও শুধু মাত্র জন্ম সুত্রে ভর্তি হওয়া, এছাড়াও রাষ্ট্রীয় চাকরিকে জন্মসূত্রে সুবিধা অর্জনের মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে যোগ্যতার প্রতিযোগিতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ন্যায়নীতি ভঙ্গ হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে প্রথমে ফেল করেও ভর্তি করানো হয়, তারপর তাকে সেখানেই শিক্ষকের তালিকায় যোগ করা হয়। এমন এই দীর্ঘদিনের প্রথা ব্যবস্থায় আজ দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা ভঙ্গুর। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নেই কোন গবেষণা নেই কোন নীতি-নৈতিকতা, নেই কোন মানুষ গড়ার শিক্ষা যা আছে তা হলো স্বার্থ, ক্ষমতার লালসা।

 

পোষ্য কোটার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ;উত্তরাধিকার নাকি বৈষম্য?

রাষ্ট্রীয় চাকরি সহ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ও সরকারি সকল প্রতিষ্ঠান জনগণের করের অর্থে পরিচালিত একটি ব্যবস্থা। এর প্রতিটি পদ ও সুযোগ জনগণের যৌথ সম্পদ। সুতরাং এই চাকরিতে প্রবেশাধিকার পাওয়া উচিত কেবল যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। কিন্তু যখন নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সন্তানরা পোষ্য কোটার নামে সরাসরি সুবিধা পায়, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আসলে

উত্তরাধিকারভিত্তিক সম্পদে রূপান্তর করা হয়। এটি রাষ্ট্রকে নাগরিকের কাছে জবাবদিহি করার বদলে বিশেষ গোষ্ঠীর কাছে দায়বদ্ধ করে ফেলে।

পোষ্য কোটার মূল দর্শন আসলে একধরনের “সুবিধাভোগী শ্রেণী” তৈরি করা। এর মাধ্যমে প্রশাসনে ক্ষমতা স্থানান্তরিত হয় এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের শ্রম, অধ্যবসায় ও মেধা দিয়েও সুযোগ পায় না, আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এক ধরনের বংশানুক্রমিল একচেটিয়া আধিপত্যে রূপ নেয়। যা একটি জাতি কে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে।

 

যোগ্যতা বনাম পরিবারসুত্র; ন্যায়ের দ্বন্দ্ব

 

যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা হল সামাজিক ন্যায়বিচারের মূলে থাকা দর্শন। মেধা, অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতাই হওয়া উচিত ফল লাভের একমাত্র মাধ্যম হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষা, হতে পারে সরকার চাকরির জন্য নির্বাচনের মানদণ্ড। কিন্তু পোষ্য কোটায় জন্মসূত্রক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই দ্বন্দ্ব আসলে ন্যায়ের পরিপন্থী। প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার বলে একটা অযৌক্তিক ম্যান্ডেট দাঁড় করাইতে চায় একটা আধিপত্য বিস্তার করা গোষ্ঠী।

অথচ একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হয়তো বছরের পর বছর পড়াশোনা করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কিন্তু সে যদি ব্যর্থ হয় কেবলমাত্র এই কারণে যে তার কোনও পরিবার এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নেই অথবা রাষ্ট্রীয় চাকরিতে যুক্ত নয়, অথচ অন্য কেউ কেবল জন্মগত কারণে চাকরি পেয়ে যায়, তবে সেটি ন্যায়ের সম্পূর্ণ পরিহাস এটি সেই অন্ধকার ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয় রাজা’র ছেলেই রাজা হবে আর কৃষকের সন্তান কৃষকই থেকে যাবে। একবিংশ শতাব্দীতে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একদমই কাম্য নয়। রাষ্ট্রীয় চাকরিসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান কে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো উত্তরাধিকার দিয়ে দেওয়ার এই নীতি আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

 

রাষ্ট্রীয় সুবিধাকে বৈষম্যমুলক বণ্টন

 

বাংলাদেশ কৃষকদের দেশ বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক দেশ এখানে খেঁটে খাওয়া মানুষের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে রাষ্টীয় আমলাদের বেতন ভাতা চলে। বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৯ নং অনুচ্ছেদে’র ১নং অনুযায়ী সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সদা সচেষ্ট থাকিবেন। সেই হিসাবে

রাষ্ট্রীয় সলক সুযোগ সুবিধা সমানভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা। কারণ রাষ্ট্রের অর্থ গড়ে ওঠে প্রতিটি নাগরিকের কর ও শ্রম থেকে। অথচ বাস্তবাতায় পোষ্য কোটার কারণে রাষ্ট্রীয় সুযোগের বণ্টন হয় বৈষম্যমূলক। এতে দুটি শ্রেণি তৈরি হয়

এক শ্রেণি যারা জন্মসূত্রে বিশেষ সুযোগ পায়,

অন্য শ্রেণি যারা শ্রম ও মেধার পরও বঞ্চিত থাকে।

 

এ বৈষম্য সমাজে একটি দীর্ঘস্থায়ী হতাশার সংস্কৃতি তৈরি করে । যারা বারবার পরিশ্রম করেও ব্যর্থ হয়, তারা ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। আর যেসব পরিবার উত্তরাধিকারের কারণে সুবিধাভোগী হয়, তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করে এবং আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে যা ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে এবং একই সাথে এর ফলে রাষ্ট্রের ভেতরে ন্যায়ের চেয়ে অসাম্যের ভিত্তি দৃঢ় হয়।

 

প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা

 

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার পরিবর্তে উত্তরাধিকারকে , জন্মসুত্র কে প্রাধান্য দেওয়ার পরিণতি মারাত্মক। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করে, যেমন জন্মসুত্রে মেধা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় প্ল্যান মাফিক চলে তাকে মেধা তালিকায় উপরে রাখার তারপর তাকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অযোগ্য ব্যাক্তি যোগ্য স্থানে নিজেকে স্থায়ী করে নেন। এখন এমন অযোগ্য ব্যক্তির থেকে শিক্ষার্থী কি শিখতে পারবেন? নীতি-নৈতিকতা, না শিক্ষা, না গবেষণা কোন কিচ্ছু না , যা পাবেন তা অনিয়ম অবিচার, দুর্নীতি। আর এটিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে বিষাক্ত ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে পরবে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে।

আবার অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনে এমন লোক ঢুকে পড়ে, যারা হয়তো বাস্তব দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়। মেধাবীরা যখন বঞ্চিত হয়, তারা অন্যত্র সুযোগ খোঁজে, অনেক সময় দেশত্যাগ করে। এর ফলে ব্রেইন ড্রেইন ঘটে এবং রাষ্ট্র মেধাহীনতায় ভুগতে শুরু করে। একজন অযোগ্য প্রশাসক কেবল নিজের কর্মক্ষেত্রকেই দুর্বল করে না, বরং গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে অকর্মণ্য করে তোলে। সুতরাং পোষ্য কোটা প্রশাসনিক দক্ষতার জায়গায় অযোগ্যতার বৈধতা প্রদান করে। এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি জাতির জন্য অপূরণীয়।

 

মেধার প্রতি অবিচার ও সামাজিক ক্ষোভ

 

একটি রাষ্ট্রে মেধা যদি মূল্যায়িত না হয়, তবে সেই সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পোষ্য কোটা সেই অন্ধকারকে ঘনীভূত করছে। শিক্ষার্থীরা যখন দেখে তাদের শ্রম ও ত্যাগের কোনও মূল্য নেই, আর কেবল জন্মসূত্রে সুবিধা পাওয়া যায়, তখন তারা হতাশ হয়। এর ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায়। এই ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া মেধাহীন কিন্তু সুবিধাভোগী এক শ্রেণি রাষ্ট্রীয় চাকরিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠলে, তারা নিজেদের সুবিধা ধরে রাখতে আরও বৈষম্যমূলক নীতি প্রণয়ন করে। এর ফলে রাষ্ট্রে এক ধরনের অসাম্যের দুষ্টচক্র তৈরি হয়।

 

ন্যায়বিচারের মূল দর্শনের পরিপন্থী

 

ন্যায়বিচার মানে হলো সমান সুযোগের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা। কিন্তু পোষ্য কোটা সেই সমান সুযোগকে ধ্বংস করে দেয়। একজন শ্রমনিষ্ঠ নাগরিক রাষ্ট্রীয় চাকরির জন্য যদি তার মেধার পরীক্ষা দিতে না পারে কেবল জন্মগত কারণে, তবে সেটি ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন। রাষ্ট্রীয় চাকরি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। তাই এটি উত্তরাধিকার হতে পারে না। এটি হতে হবে যোগ্যতার প্রতিফলন। অন্যথায় ন্যায়বিচার কেবল কাগুজে স্লোগান হয়ে থাকবে, বাস্তবে এর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর বার্তা

 

পোষ্য কোটার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি যে বার্তা পাঠায়। যদি শিশুরা দেখে যে রাষ্ট্রীয় চাকরি পাওয়ার জন্য পরিশ্রম নয়, বরং জন্মসূত্রই আসল শর্ত, তবে তারা আর শিক্ষা বা দক্ষতার প্রতি আগ্রহী হবে না। এর ফলে একটি সমাজে মেধাপ্রবাহের ভাটা দেখা দেবে। তারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে কেউ কেউ নির্মম সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় আত্মহননের কেউ বা দেশ ছাড়ার। এমন করে হারিয়ে যাবে আমাদের প্রজন্ম। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবে রাষ্ট্র। যে জাতি শিক্ষা ও মেধাকে গুরুত্ব দেয় না, সে জাতি কখনও উন্নত হতে পারে না। সুতরাং পোষ্য কোটার এই বিকৃত বার্তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মবিমুখ, সুবিধাভোগী এবং নির্ভরশীল করে তুলবে।

 

সাংবিধানিক ও নৈতিকার প্রশ্ন

 

সংবিধান নাগরিকদের সমানাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমানে ১১ টি অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদগুলো হলো ২৭ থেকে ৪২ পর্যন্ত। এর মধ্যে ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারী নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা থাকবে “প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকদের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে”। কিন্তু পোষ্য কোটা সেই সমানাধিকারকে লঙ্ঘন করে। এটি সংবিধানের আত্মার পরিপন্থী। কারণ সংবিধান বলে, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পেতে হবে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে। কিন্তু পোষ্য কোটা সেই নীতিকে ধ্বংস করে একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু করে।

নৈতিক দিক থেকেও এটি প্রশ্নবিদ্ধ। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কাছে সমান দায়বদ্ধ। কোনও বিশেষ পরিবারের কাছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ হস্তান্তর করা নৈতিকতার পরিপন্থী। এটি নাগরিকদের মধ্যে একধরনের অন্যায়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। বৈষম্যের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি

 

পোষ্য কোটা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রে যে ক্ষতি ডেকে আনে, তা বহুমুখী। শিক্ষাক্ষেত্রে ভঙ্গুরতা তৈরি হয়।প্রশাসনিক কাজে অযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। মেধাবীরা রাষ্ট্র থেকে বিমুখ হয়। নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা জন্মায়।এর ফলস্বরূপ হতাশায় পরিশ্রমরা আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। সমাজে বৈষম্য স্থায়ী রূপ পায়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই ধরনের বিভিন্ন দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান ক্ষেত্রগুলো একত্রে একটি জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কারণ রাষ্ট্রের উন্নয়ন নির্ভর করে তার দক্ষ মানবসম্পদের ওপর। যদি মানবসম্পদ নিয়োগ হয় অযোগ্যতার ভিত্তিতে, তবে রাষ্ট্র কখনো টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারবে না। পোষ্য কোটা আসলে অধিকার নয়, এটি বৈষম্যের হাতিয়ার। রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে ন্যায়, সমতা ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়, তবে এই অযৌক্তিক প্রথার অবসান অপরিহার্য। রাষ্ট্রীয় সুযোগ কখনও উত্তরাধিকার হতে পারে না; এটি কেবল যোগ্যতার প্রতিফলন হওয়া উচিত। একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে আমাদের অবশ্যই পোষ্য কোটার মতো অযৌক্তিক প্রথাকে পরিত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আমরা বারবার যোগ্যতাকে বঞ্চিত করে অযোগ্যতাকে বৈধতা দেব, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

 

 

 

মোহাম্মাদ আশিক

শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

ashikhasanm03@gmail.com

লেখক: সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!