শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বিপন্ন শৈশব ও অনলাইন গেমসের নেশা: আমাদের দায়বদ্ধতা

Author

প্রজ্ঞাজ্যোতি বড়ুয়া , হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ১৭৬ বার

একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো তার তরুণ ও শিশু সমাজ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশ আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। একদিকে মাদকাসক্তি যেমন যুবসমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি ‘ফ্রি ফায়ার’-এর মতো অনলাইন গেমসের নেশা আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের শৈশবকে গ্রাস করে নিচ্ছে। এটি বর্তমানে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক অশনিসংকেত।
​পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকা চাকডালার ৪নং ওয়ার্ডের সালামিপাড়া পর্যন্ত আজ এই মরণনেশার থাবা বিস্তৃত হয়েছে। পাড়ার মোড়ে কিংবা রাস্তার ধারের দোকানে একদল শিশুকে গোল হয়ে বসে স্মার্টফোনে মগ্ন থাকতে দেখা যায়। অনেক শিশু খাতায় নাম লিখিয়েও স্কুলের বারান্দায় পা রাখছে না; বরং হারিয়ে যাচ্ছে পাঠ্যবই ও মৌলিক শিক্ষার আলো থেকে।
​সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পারিবারিক উদাসীনতা। অভিভাবকরা যখন সন্তানদের হাতে অবাধে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন এবং তাদের কার্যকলাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন, তখনই সুযোগ বুঝে তারা দিনের আলো থেকে শুরু করে রাতের আঁধার পর্যন্ত এই মরণখেলায় মজে থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ অন্ধকার ও মেধা-শূন্যতার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে।
​এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে  সন্তানদের গতিবিধির ওপর অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। তারা কোন পথে চলছে এবং কার সাথে সময় কাটাচ্ছে, তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।
​শিশুদের হাতে অপ্রয়োজনে এবং দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন থাকা নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রযুক্তি যেন তাদের দাসে পরিণত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বীজ বপন করতে হবে।
পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিশুদের মাঠের খেলাধুলা, ছবি আঁকা বা বই পড়ার মতো সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে হবে।
বর্তমান ও প্রজন্মের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের বিপথগামিতা রুখতে আজই আমাদের ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।

লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!