শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

তরুণরা জুলাইয়ের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন চাই

Author

Azizur Rahman Santo, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ৩৯ বার

তরুণরা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন চাই

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি কেবল একটি সময়কাল নয়, বরং ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ, সাহস এবং পরিবর্তনের অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই জুলাই অভ্যুত্থান তরুণদের মনে এক নতুন বিশ্বাস তৈরি করেছে—যে তারা চাইলে অন্যায়, বৈষম্য ও অকার্যকর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।

এই অভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল তরুণ সমাজ। তারা রাস্তায় নেমেছিল শুধু ক্ষণিকের আবেগে নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অনিশ্চয়তা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছুর বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে তারা একটি নতুন বার্তা দিয়েছে: “এবার পরিবর্তন চাই, এবং সেটি বাস্তব।”

কিন্তু একটি অভ্যুত্থান সফল হলেও তার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন। ইতিহাস বলে, আন্দোলনের চেয়ে আন্দোলনের ফল ধরে রাখা বেশি চ্যালেঞ্জিং। আজকের তরুণরা তাই শুধু আন্দোলনেই থেমে থাকতে চায় না; তারা চায় সেই জুলাইয়ের চেতনাকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে।

এই আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি মৌলিক দাবি—স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগের নিশ্চয়তা, এবং আইনের শাসনের বাস্তব প্রয়োগ। তরুণরা এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং দক্ষতা ও সততাই হবে অগ্রগতির মাপকাঠি। তারা চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখা হবে না।

তবে বাস্তবতা হলো, এই লক্ষ্য অর্জনের পথে নানা বাধা রয়েছে। ক্ষমতার রাজনীতি, পুরনো ধ্যানধারণা এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রতিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে এই পথ সহজ নয়। কিন্তু জুলাইয়ের অভ্যুত্থান তরুণদের শিখিয়েছে—সংগঠিত শক্তি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।

এখন প্রয়োজন আন্দোলনের শক্তিকে ইতিবাচক রূপ দেওয়া। তরুণদের শুধু প্রতিবাদে নয়, নীতি প্রণয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের জায়গায় সক্রিয় হতে হবে। প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা একটি আধুনিক ও কার্যকর রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যদি এই তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে তা ভবিষ্যতে আরও বড় অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। আর যদি তাদের শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে বাংলাদেশ একটি নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে পারে।

জুলাইয়ের অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়েছে—পরিবর্তন সম্ভব। এখন প্রশ্ন একটাই: সেই পরিবর্তন কি টিকে থাকবে, নাকি তা আবার ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে?

তরুণদের বার্তা স্পষ্ট—
তারা আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!