শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

ইলেকট্রিক স্কুটির যত্ন-আত্তি

Author

শাহাদাত হোসেন রাহাত , সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ পাঠ: ৪৬ বার

বর্তমান সময়ে নগরজীবনের ব্যস্ততা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ইলেকট্রিক স্কুটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং স্বল্প দূরত্বে নিয়মিত চলাচলকারীদের কাছে এটি একটি অর্থসাশ্রয়ী ও আধুনিক পরিবহন মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সহজ পরিচালনা, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং তুলনামূলকভাবে কম চার্জিং ব্যয়ের কারণে অনেকেই এখন প্রচলিত মোটরসাইকেলের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক স্কুটি বেছে নিচ্ছেন। তবে দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স পেতে হলে সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ব্যবহারকারীর হাতেই একটি ইলেকট্রিক স্কুটি দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সড়কে এখন প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক স্কুটি। প্রযুক্তিনির্ভর এই যানবাহন শুধু সময় বাঁচায় না, বরং পরিবেশ দূষণও কমাতে ভূমিকা রাখে। ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এতে পেট্রোল বা অকটেনের প্রয়োজন হয় না, ফলে যাতায়াত ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ইলেকট্রিক স্কুটি কেনো জনপ্রিয়?

গত কয়েক বছরে দেশে ইলেকট্রিক স্কুটির বাজার ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। শিক্ষার্থী, ডেলিভারি রাইডার, নারী ব্যবহারকারী এবং অফিসগামীদের মধ্যে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শহরের যানজটপূর্ণ রাস্তায় সহজে চলাচল, পার্কিং সুবিধা এবং কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ ইলেকট্রিক স্কুটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

একটি সাধারণ ইলেকট্রিক স্কুটি একবার পূর্ণ চার্জে বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ১৪-২০ টাকা যার সাহায্যে ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। তবে এই দূরত্ব নির্ভর করে ব্যাটারির ক্ষমতা, রাস্তাঘাটের অবস্থা, যাত্রীর ওজন এবং চালানোর গতির ওপর। উন্নতমানের কিছু মডেল এক চার্জে ১৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম।

এছাড়াও আধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটিতে স্মার্টফোন অ্যাপ কন্ট্রোল, NFC প্রযুক্তি এবং অ্যান্টি-থেফট অ্যালার্মের মতো উন্নত সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই স্কুটির বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ, লক-আনলক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। ফলে ইলেকট্রিক স্কুটি শুধু একটি পরিবহন মাধ্যমই নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট যাতায়াত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

ইলেকট্রিক স্কুটি ব্যবহারে করণীয়

ইলেকট্রিক স্কুটি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত, হঠাৎ অতিরিক্ত গতিতে না চালিয়ে ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো উচিত। এতে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে এবং চার্জ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

চালানোর সময় নিয়মিত ব্রেক, হর্ন, লাইট এবং টায়ারের অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দীর্ঘ যাত্রার আগে ব্যাটারির চার্জ পর্যাপ্ত আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ওজনসীমার বেশি বোঝা বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে মোটর ও ব্যাটারির আয়ু কমে যেতে পারে।

বৃষ্টির মৌসুমে ইলেকট্রিক স্কুটি ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অধিকাংশ আধুনিক স্কুটিতে পানি প্রতিরোধী প্রযুক্তি থাকলেও গভীর পানি বা জলাবদ্ধ রাস্তায় চালানো উচিত নয়। এতে মোটর, কন্ট্রোলার কিংবা ব্যাটারির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টিতে চলার পর শুকনো কাপড় দিয়ে স্কুটির বাইরের অংশ মুছে ফেললে মরিচা পড়ার ঝুঁকি কমে। এবং জলাবদ্ধ রাস্তায় চালানোর পরবর্তীতে অন্তত কিছু ঘণ্টা বিরতি দিন স্কুটারের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় স্কুটি ব্যবহার করা।

রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যাটারির সঠিক যত্ন

ইলেকট্রিক স্কুটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যাটারি। তাই ব্যাটারির যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যাটারি সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই চার্জ দেওয়া ভালো। আবার অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় চার্জারে সংযুক্ত রাখাও উচিত নয়।

স্কুটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে অন্তত দুই সপ্তাহে একবার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া প্রয়োজন। এতে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। চার্জ দেওয়ার সময় মানসম্মত ও অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করা উচিত।
টায়ারের বাতাস নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। সঠিক চাপ না থাকলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। ব্রেক সিস্টেম, সাসপেনশন ও লাইট নিয়মিত পরীক্ষা করলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব।

স্কুটিকে সরাসরি রোদ বা বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় ফেলে না রেখে ছায়াযুক্ত ও শুকনো স্থানে রাখা উচিত এবং স্কুটিতে অতিরিক্ত ওজন বহন না করা। এতে ব্যাটারি, মোটর ও প্লাস্টিক বডির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কোথায় পাবেন, কত দাম?

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে ইলেকট্রিক স্কুটির শোরুম ও ডিলারশিপ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও নতুন স্কুটি কেনা যায়। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের স্কুটি পাওয়া যায়। যেমন Yadea, Revoo, Walton, TailG, Rydo, Zeeho ইত্যাদি। যার দাম সাধারণত ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকার বেশি পর্যন্ত হতে পারে।

স্কুটি কেনার আগে ব্যাটারির ধরন, মোটরের ক্ষমতা, চার্জিং সময়, সর্বোচ্চ গতি এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত।
ইলেকট্রিক স্কুটি শুধু আধুনিক পরিবহন নয়, এটি ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী দীর্ঘদিন নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!