শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

১৭ বছরেও সমাবর্তন নেই, বেরোবির অপেক্ষা আর কত

Author

মাসফিকুল হাসান , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ৪ বার

১৭ বছরেও সমাবর্তন নেই, বেরোবির অপেক্ষা আর কত?

 

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তগুলোর একটি সমাবর্তন। দীর্ঘ কয়েক বছরের পড়াশোনা, পরীক্ষা, অপেক্ষা, সংগ্রাম আর নানা স্মৃতির শেষে একদিন কালো গাউন ও ক্যাপ পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে আসে সনদ। সেই দিনটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; একজন শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

 

কিন্তু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য সেই দিনটি এখনো আসেনি। ২০০৮ সালের ২০ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৬ সালে ১৭ বছর পার করেছে। এত বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়েছে। অনেকে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কেউ হয়েছেন শিক্ষক, কেউ গবেষক, কেউ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, কেউ উদ্যোক্তা। কিন্তু এই দীর্ঘ পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এখনো যুক্ত হয়নি প্রথম সমাবর্তনের অধ্যায়। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক—সমাবর্তন, তুমি কোথায়?

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবর্তনের দাবি নতুন নয়। সাবেক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে এই আয়োজনের অপেক্ষায় ছিলেন। সমাবর্তনকে ঘিরে অপেক্ষার কারণও আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু ক্লাস, পরীক্ষা আর ফল প্রকাশের মধ্যে শেষ হয় না। সমাবর্তন সেই সম্পর্কের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তখন তাঁর চোখে থাকে নানা স্বপ্ন। কয়েক বছর পর যখন পড়াশোনা শেষ করেন, তখন তিনি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করেন না; বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তৈরি হয় অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতির শেষ অধ্যায় হিসেবে সমাবর্তনের দিনটি অনেকের কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। কিন্তু বেরোবির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী সেই সুযোগ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন।

 

২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল, প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী তখন পর্যন্ত মূল সনদ ছাড়াই ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। পরে ২০২৩ সালে সমাবর্তন ছাড়াই মূল সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অর্থাৎ সনদ পাওয়া এবং সমাবর্তন পাওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই। সনদ একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক অর্জনের প্রমাণ আর সমাবর্তন সেই অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এই জায়গাটিও স্বীকার করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের জন্য দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

 

২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম সমাবর্তনের নিবন্ধন শুরু করে। তখন জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ব্যাচ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এমনকি সমাবর্তন সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটির সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বরের অফিস আদেশে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে ছুটির সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ সমাবর্তন শুধু ঘোষণার পর্যায়ে ছিল না; প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও হয়নি। তারিখ বদলানোর পেছনে কী ছিল? প্রথমে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর জানুয়ারি ২০২৬-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবার সমাবর্তন স্থগিত করা হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন সমাবর্তনের নিবন্ধনের সময় পরিবর্তন, নিবন্ধন ফি কমানোসহ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন দাবি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিকে সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ সমাবর্তন আয়োজনের পথে একটি নয়, একাধিক বিষয় সামনে এসেছিল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। অতিথি কে হবেন—সেটিও কি বড় বাধা?

 

সমাবর্তনের মতো রাষ্ট্রীয় মর্যাদার একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বা সভাপতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিথি নির্বাচন নিয়ে মতপার্থক্য যেন পুরো আয়োজনকে অনিশ্চয়তায় না ফেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তারিখ পরিবর্তনের সংবাদে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিথি-সংক্রান্ত জটিলতার কথাও উঠে এসেছিল। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখের সঙ্গে সমাবর্তনের তারিখের সংঘাতের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

এখানে প্রশ্ন হতে পারে—একটি বিশ্ববিদ্যালয় কি আগে থেকেই সম্ভাব্য অতিথি, বিকল্প তারিখ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় সমন্বয় করে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে পারে না?

সমাবর্তন একদিনের অনুষ্ঠান হলেও এর প্রস্তুতি একদিনে হয় না। তাই অতিথি নির্বাচন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, বাজেট, নিবন্ধন, সনদ, গাউন, স্থান, পরিবহন, আবাসন, আমন্ত্রণ ও প্রটোকল—সবকিছুর সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

সমাবর্তনের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে গেলেও তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানেরই অংশ হয়ে থাকেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সমাবর্তন স্থগিতের সময় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি বিবেচনার কথা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছিল।

 

এটি ইতিবাচক যে সাবেক শিক্ষার্থীদের মতামতকে আলোচনায় আনা হয়েছে। তবে সেই আলোচনার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকা প্রয়োজন। কোন দাবি বাস্তবসম্মত? কোনটি জরুরি?কোনটির আর্থিক প্রভাব কত? কোন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দ্রুত একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। কারণ একটি আয়োজন যত দেরি হয়, অনিশ্চয়তাও তত বাড়ে।

 

২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেজিস্ট্রার বলেন, অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে প্রতিবেদনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বাজেটের সীমাবদ্ধতাকেও স্থগিতের কারণ হিসেবে দাবি করেছে। এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা কেন নিবন্ধন করলেন না? দ্বিতীয়ত, সমাবর্তন আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কীভাবে আগে থেকেই নিরূপণ করা হয়েছিল?

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিবন্ধন ফি শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি মনে হয়ে থাকতে পারে—যদিও তা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলে রেজিস্ট্রারের বক্তব্য প্রতিবেদনে এসেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, শুধু ফি নির্ধারণ করলেই কি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়?হয়তো হয় না।

 

সমাবর্তনের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকে। কিন্তু সেই আবেগকে বাস্তব অংশগ্রহণে রূপ দিতে হলে শিক্ষার্থীদের কাছে আয়োজনের উদ্দেশ্য, খরচ, সুবিধা ও প্রক্রিয়া পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

 

সমাবর্তন নিয়ে কথা বললে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে গাউন, ক্যাপ, মঞ্চ আর ছবি তোলার দৃশ্য। কিন্তু সমাবর্তনের গুরুত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক জীবনের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। একজন শিক্ষার্থী যে সময়, শ্রম ও মেধা দিয়েছেন, তার একটি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্‌যাপন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সমাবর্তন হলো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত অগ্রগতি, সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং একাডেমিক ঐতিহ্যকে দৃশ্যমান করার একটি সুযোগ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ১৭ বছর হয়ে গেলেও যদি প্রথম সমাবর্তন না হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনায় কোথায় ঘাটতি ছিল? এটি কাউকে দোষারোপ করার প্রশ্ন নয়। বরং ভবিষ্যতের জন্য শেখার প্রশ্ন।

 

বেরোবির প্রথম সমাবর্তন নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ। শুধু ‘সমাবর্তন হবে’—এই ঘোষণা যথেষ্ট নয়। কবে হবে? কারা অংশ নিতে পারবেন? কতজন অংশ নেবেন? নিবন্ধন কবে শুরু হবে? ফি কত? অ্যালামনাইদের দাবিগুলো কীভাবে বিবেচনা করা হবে? বাজেট কত? প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির বিষয়টি কীভাবে চূড়ান্ত হবে?

অনুষ্ঠানের স্থান কোথায়? সনদ ও গাউন বিতরণের প্রক্রিয়া কী?

এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই পরিষ্কার করা দরকার। এর সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সম্ভাব্য কোনো কারণে নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিকল্প পরিকল্পনা থাকা।

 

কারণ একটি তারিখ ঘোষণা করে পরে আবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ভেঙে যায়। সাবেক শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসার পরিকল্পনা করেন। কেউ হয়তো বিদেশ থেকে দেশে আসার প্রস্তুতি নেন। কেউ কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাই সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি হাজারো মানুষের সময় ও প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত।

 

সমাবর্তনকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি কার্যকর সমন্বয় কাঠামো প্রয়োজন। সেখানে প্রশাসনের পাশাপাশি একাডেমিক প্রতিনিধি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, অর্থ দপ্তর, ছাত্রকল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অ্যালামনাই প্রতিনিধি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া যেতে পারে। অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। কিন্তু পরিকল্পনার শুরুতেই সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে বিরোধ বা বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমতে পারে। একই সঙ্গে সমাবর্তনের জন্য আলাদা আর্থিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব, অংশগ্রহণকারীর সম্ভাব্য সংখ্যা এবং ব্যয়ের খাত আগে থেকেই নির্ধারণ করা দরকার।

 

বেরোবির প্রথম সমাবর্তনের একটি বিশেষত্ব হতে পারে—শুধু বর্তমান সময়ের ডিগ্রিধারীদের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের ব্যাচগুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদেরও স্মরণ করা। যারা ১০ বা ১৫ বছর আগে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিংবা বিদেশে কর্মরত। কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসনে, কেউ করপোরেট প্রতিষ্ঠানে, কেউ গবেষণায়, কেউ উদ্যোক্তা। তাদের অনেকের কাছে সমাবর্তন হয়তো শুধু একটি অনুষ্ঠানে ফিরে আসা নয়; এটি হবে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসার একটি উপলক্ষ। সেই জায়গা থেকে অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ সমাবর্তনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

 

এই সময়ের মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বয়সে বড় হয় না; তার সঙ্গে তৈরি হয় প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি। যে শিক্ষার্থী ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলেন, তিনি আজ হয়তো প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী। কেউ হয়তো বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছেন নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে যোগ দেবেন বলে।কেউ হয়তো আর আসতে পারবেন না।এই বাস্তবতাই সমাবর্তনকে শুধু একটি অনুষ্ঠান না রেখে একটি প্রজন্মের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করে।

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন নিয়ে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু ‘কেন হয়নি’ বললে হবে না। প্রশ্ন করতে হবে—কীভাবে হবে? কারণ এখন প্রয়োজন আরেকটি ঘোষণা নয়; প্রয়োজন বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। প্রথমে সব পক্ষের সঙ্গে বসা যেতে পারে। অ্যালামনাইদের দাবি শোনা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের কারণ ও অনাগ্রহ বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব করা যেতে পারে। অতিথি নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করা যেতে পারে। অনুষ্ঠানস্থল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা যেতে পারে। এরপর এমন একটি তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে, যে তারিখ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই বাস্তবসম্মতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্ধারিত সময়সীমা ও অগ্রগতির তথ্য নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে জানানো যেতে পারে।তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে।

 

সমাবর্তন কারও ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয় নয়। এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অর্জন। তাই এর আয়োজনও হওয়া উচিত সবার অংশগ্রহণ ও সম্মানের জায়গা থেকে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বছরের ইতিহাসে অনেক অর্জন আছে। অনেক শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে দেশের নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এখনো একটি অধ্যায় খালি—প্রথম সমাবর্তন।সেই অধ্যায়টি আর কতদিন খালি থাকবে?

 

প্রশ্নটি শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীদের নয়। প্রশ্নটি তাঁদেরও, যাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন।সমাবর্তনের অপেক্ষা তাই কেবল গাউন আর ক্যাপের অপেক্ষা নয়।এটি একটি স্বীকৃতির অপেক্ষা।এটি একটি স্মৃতির অপেক্ষা।এটি একটি প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসার অপেক্ষা।

আর সেই অপেক্ষার সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন—সমাবর্তন, তুমি কোথায়?

 

মাসফিকুল হাসান

সাংবাদিক ও লেখক

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর

mashfiqul3049@gmail.com

লেখক: সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শেয়ারবিজ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।