মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

অপ্রতিমদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই

Author

তামিম মিয়া , কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ১৯২ বার

অপ্রতিম। এই শব্দটিতেই আটকে আছে গোটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যারা তাঁকে কখনো দেখে নি, তাদের মনও আজ বিষন্ন। ১৩ বছরের শিশু অপ্রতিমের বিভৎস ও নির্মম হত্যার খবর এখন সবার মুখে মুখে। ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম, মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। যিনি কথাসাহিত্যিক নাহিদা নাহিদ নামে সাহিত্য ভুবনে পরিচিত। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টায় আদরের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম আইফোন হাতে বেরিয়ে যায় বন্ধুদের সঙ্গে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত বাড়ে, কিন্তু অপ্রতিম ফিরে না। সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে নাহিদা নাহিদ ফেসবুকে লিখেন:
“আমার ছেলেরে আমি কই খুঁজব, জঙ্গলে নাকি পানিতে। ও কি বেঁচে আছে?”

সারারাত তন্ন তন্ন করে খুঁজা হলো, কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না অপ্রতিমকে। নিখোঁজের পরদিন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে। কিন্তু ততক্ষণে সে আর বেঁচে নেই। ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে তাঁর নিথর মরদেহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্বজনদের সম্মিলিত ব্যকুলতাও তাকে আর ফেরাতে পারেনি। প্রতিদিনকার ন্যায় বিকেলের খেলা কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডার পর ফিরে আসলেও সেই অপ্রতিমের আর ফেরা হলো না মায়ের কোলে। কয়েকদিন পর আবার হয়তো আমরা অপ্রতিমকে ভুলে যাব, অপেক্ষায় থাকব নতুন কোনো অপ্রতিমের৷ কিন্তু এই অপেক্ষার তালিকা কতো বড়? রাষ্ট্রযন্ত্রের এই নির্মমতার তালিকা শেষ কবে হবে?

শুক্রবারে বাবা কিংবা বন্ধুদের সাথে জুমা নামাজ আদায় করার রোমাঞ্চকর স্মৃতি কমবেশি আমাদের সকলেরই রয়েছে। পবিত্র এই দিনের পবিত্র এই আবহে বাবা-মাও আমাদের ছেলেবেলায় ছেড়ে দিতেন। এদিকে আমরাও কি অনাবিল স্বাধীন সময় উপভোগ করতাম! আনন্দে খেলে বেড়াতাম, চড়কির মতো ঘুরতাম, আড্ডার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতাম। এমন এক শুক্রবারেই বন্ধুদের সাথে আইফোন হাতে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না অপ্রতিমের।
নাহিদা নাহিদের ফেসবুক পোস্ট থেকে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনের লোভেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু যদি আইফোনই নিতে হয় তবে কেন এই নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা আর নৃশংসতার শিকার হতে হয় তাঁকে?

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গত সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু উদ্ধার হয়নি। প্রথমদিকে শিশু নিখোঁজের এ খবর স্যোসাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লে তা গুজব হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, শিশু নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। যদিও বেশি সংখ্যক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। কিন্তু এই বেশি সংখ্যক শিশু উদ্ধার হওয়ায় চাপা পড়ে যায় নিখোঁজ থেকে যাওয়া শিশুরা। মাঝে মাঝে এই অপ্রতিমের মতো নির্মল শিশুরা এসে নাড়িয়ে দিয়ে যায়, আর প্রশ্ন রেখে যায় সমাজের এই নিরাপত্তাহীনতার প্রতি।

আর কতো অপ্রতিম হারালে প্রশাসনের টনক নড়বে? রাষ্ট্রের এই ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান কবে হবে? সবশেষে এইটুকুই প্রত্যাশা, আর কোনো অপ্রতিম যেন লাশ হয়ে ফিরতে না হয়, আর কোনো মায়ের পরিণতি যেন নাহিদা নাহিদের মতো না হয়। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জরিত সকলকে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তাতেও কি অপ্রতিমের রেখে যাওয়া ক্ষতের দাগ আমাদের হৃদয় থেকে মুছতে পারবে?

তামিম মিয়া
সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
ইমেইল: tamimsarkercou@gmail.com

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।