স্বপ্ন হলো সত্যি

মেট্রোরেল বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এক বাস্তব প্রতিফলন। বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঢাকায় একটি মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা। একসময় ঢাকার উত্তরা থেকে আগারগাঁও, মতিঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলিস্তান পর্যন্ত যেতে সময় লাগত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। যানজট ছিল নিত্যসঙ্গী। এখন মানুষ মেট্রোরেলের কল্যাণে এই দূরত্ব পাড়ি দিতে পারছে ৩১ মিনিটের মধ্যেই। এভাবে এ রাস্তায় যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যাও অনেক কমেছে যার ফলে এ সড়কে যানজট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
মানুষ এখন সহজেই স্টেশন থেকে একটি ওয়ানওয়ে পাস কিনে ভাড়া পরিশোধ করে বা স্থায়ী মেট্রোরেল পাস ব্যবহার করে ভাড়া পরিশোধ করে মেট্রোরেল পরিষেবা গ্রহণ করছে।
ফলে নিত্যদিনের বাস ভাড়ায় নৈরাজ্যের অভিযোগ অনেক কমে এসেছে। মেট্রোরেলের প্রতি ঘণ্টায় একদিকে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা ৬০,০০০ জন, যা এমনিতেই বাস, গাড়ি, মোটরসাইকেল প্রভৃতি যানবাহনের ওপর মানুষের নির্ভরতা
অনেক কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বেশিরভাগ মানুষ এখন বাসের তুলনায় মেট্রোরেলে ভ্রমণকে তুলনামূলক নিরাপদ ও সময়সাশ্রয়ী বলে মনে করেন। এছাড়া মানুষ অনেক স্মার্টভাবেই এ পরিষেবা গ্রহণ করে যাতায়াত করছে যার কারণে বাসগুলোর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো নামানোর প্রবণতাও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
এমতাবস্থায় দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সকল স্টেশন চালু হলেও আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মতিঝিল স্টেশন ব্যতীত আর কোনো স্টেশন চালু নেই। এ অবস্থায় শাহবাগ বারডেম স্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনসহ অন্য স্টেশনগুলো অবিলম্বে চালু করতে পারলে এ অঞ্চলে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, ডাক্তার, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে। এছাড়া এমআরটি-১, ২সহ মেট্রোরেলের বাকি প্রকল্পগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা হলে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি থাকবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাছাড়া মেট্রোরেল প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী
যেসব এলাকায় মেট্রোরেল পরিষেবা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি সেসব এলাকায় অবিলম্বে মেট্রোরেল পরিষেবা চালু করতে হবে। এতে সেসব এলাকার মানুষ যেকোনো প্রয়োজনে অল্পসময়ে রাজধানীর যে কোনো এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে এবং এতে সময়ের অপচয় রোধ যেমন সম্ভব হবে তেমনি পরিবেশ দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।
এতে ঢাকা শহরের বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের বদনাম কিছুটা লাঘব হবে। মেট্রোরেলের সঠিক যত্ন নিতে হবে এবং এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার সুফল ভোগ করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। রাজধানী শহর ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে বর্তমানে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় মেট্রোরেল হতে পারে মানুষের ভরসার স্থান ও শহরের বিভিন্ন স্থানে
অল্প সময়ে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান উপায়। সবশেষে এই মেট্রোরেল ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীবাসীসহ দেশের সকল প্রান্তের মানুষ উপকৃত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

