শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বাংলাদেশে সম্পদ বৈষম্য: অর্থনীতির পরিসংখ্যান ও জাকাতের ভাবনা

Author

মিনহাজ হোসেন , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৩৪ বার

ইকোনমিকস পড়তে গিয়ে একটি বিষয় জানার পর সত্যিই মনটা ভারী হয়ে আসে আর মাথায় ঘুরপাক খায় জাকাতের কথা কিন্তু আমরা তো অতি ট্যলেন্ট ১০০ টাকার জাকাতের স্পেশাল শাড়িতেই চালাই দেই, World Inequality Lab-এর গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে সম্পদের বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। দেখা যায়, দেশের শীর্ষ ১০% মানুষ প্রায় ৫৮% সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে নিচের ৫০% মানুষের হাতে রয়েছে মাত্র প্রায় ৫% সম্পদ। অর্থাৎ দেশের অর্ধেক মানুষের কাছে সম্পদের খুব সামান্য অংশ রয়েছে।
এই বৈষম্যের পেছনে রয়েছে আয়ের অসম বণ্টন, দুর্নীতি, সীমিত কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষার অভাব এবং সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ। ফলে সমাজের একটি ছোট অংশ দ্রুত ধনী হয়ে উঠছে, আর বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।সম্পদ বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়,এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। যখন অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন সমাজে অসন্তোষ, দারিদ্র্য এবং সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়তে থাকে।
রংপুরে তো অনেক দিন থাকি। অনেকেই মনে করেন এই অঞ্চলের মানুষ সবাই গরিব। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় এত সরল নয়, অনেক সময় দরিদ্রতার একটি নির্দিষ্ট চিত্র বারবার তুলে ধরা হয়, কারণ “গরিব” পরিচয়টি দেখালে সেটি সহজে মানুষের আবেগকে নাড়া দেয়। অর্থনীতিতে এ ধরনের প্রবণতাকে Poverty Po*n বলা হয়—যেখানে দারিদ্র্যের চিত্রকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে সহানুভূতি বা মনোযোগ পাওয়া সহজ হয়।
তবে এই পরিস্থিতি হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরেই সম্পদের এই অসম বণ্টন তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, ১৯৯০ সালের দিকে দেশের মোট সম্পদের প্রায় ৫০% শীর্ষ ১০% মানুষের হাতে ছিল, আর নিচের ৫০% মানুষের হাতে ছিল মাত্র প্রায় ৭%। ২০০০ সালের দিকে ধনীদের অংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৫%, এবং নিচের অর্ধেক মানুষের অংশ কমে প্রায় ৫%-এ নেমে আসে।।

আমাদের সমাজে বৈষম্য কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা রয়েছে জাকাত। যদি আমরা সবাই আন্তরিকভাবে এবং সঠিকভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টন করতে পারি, তাহলে সমাজের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত হতে পারে এবং সম্পদের বৈষম্য কিছুটা হলেও কমে আসবে। ইনশাআল্লাহ, সঠিকভাবে এই ব্যবস্থাটি কার্যকর হলে আমাদের সমাজ আরও ন্যায্য ও মানবিক হয়ে উঠতে পারে।

মিনহাজ হোসেন
১০/০৩/২০২৬

লেখক: সদস্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!