নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস

ওই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পাবার পর বাড়ি থেকে বের হওয়া, তারপর আর বাড়ি ফেরা হয় না তেমন। ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়, মাসের পর মাস অতিবাহিত হয় কিন্তু দেখা হয় না প্রিয় মানুষগুলির মুখগুলি। প্রতিদিনের ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্টের প্রেজেন্টেশন আর ভাইভার একঘেয়েমিতায় যখন হাপিয়ে উঠি, তখন মনটা বড্ড ছটফট করে। বৃহস্পতিবার আসলে সবার মতো আমারো বাড়ি যেতে ইচ্ছা করে, ব্যাগ গুছিয়ে স্টেশনে ছুটতে মন চায়। কিন্তু শেষমেশ যাওয়া হয় না—কারণ বাড়ি বড্ড দূরে। দূরত্বের এই দেয়াল আর পড়াশোনার চাপ মিলে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি করে।
তার পর! তার পর আসে ঈদ। সেই চিরচেনা ঈদের ছুটি যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো নামে তপ্ত মরুভূমিতে। ব্যস্ত ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট আর প্রেজেন্টেশনের নগরজীবনের ক্লান্তি ও দৈনন্দিনতার ভিড় পেরিয়ে মন তখন আপন শিকড়ে টানে। শুরু হয় নাড়ির টানে ঘরে ফেরার এক আবেগময় যাত্রা।
বহুমাস পর প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার এবং প্রিয় মুখগুলি দেখার সেই মানবিক শান্তি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঈদের আমেজের সাথে বাবা, মা, চাচা, চাচি, ভাই, বোন, দাদা, দাদিদের সাথে ঈদ পালন আনন্দ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। যান্ত্রিক শহর আমাদের একা করে দিলেও পরিবার আমাদের পূর্ণতা দেয়। পরিবারের সাথে রাত জেগে গল্প করা আর এলাকার বন্ধুদের সাথে বিকালে আড্ডা দেয়া যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবার মতো। মনে হয়, এই তো আমি, এই তো আমার আসল জীবন।
ঈদের দিন গ্রামের শেষ সীমানায় সেই শতবর্ষী বটগাছটার নিচে মেলার আনন্দ আজও অমলিন। ছোটবেলার সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়টা যখন দেখি, তখন নিমিষেই নস্টালজিক হয়ে পড়ি। মনে পড়ে যায় ফেলে আসা সেই সোনালী দিনগুলো। ঈদের পরের দিন বন্ধুদের সাথে বিকেলে ফুটবল খেলার প্রতিটি মুহূর্ত যেন হারানো শৈশবকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ভুলে শেকড়ের এই টানে মিশে গিয়ে আমি যেন নতুন করে বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি খুঁজে পাচ্ছি। ঈদের এই বাঁধভাঙা উল্লাস আর আড্ডার স্মৃতিগুলো আমার মনের মণিকোঠায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।

