“প্রণয়”
মানুষ আল্লাহ তায়ালাকে তখনই ভালোবাসতে পারে, যখন সে কোনো মানুষকে ভালোবাসতে জানে। কবি যখন তাঁর যৌবনে পদার্পণ করেন, তখন তিনি এক রূপবতী রমণীর প্রেমে পড়েন। কিন্তু কবি তাঁর মনের কথা তাঁর প্রেমিকার কাছে পৌঁছাননি; কারণ কবি তাঁর সন্তানকে একজন লাস্যময়ী, রূপবতী ও বেপর্দা নারীকে মা হিসেবে নির্ধারণ করতে চাননি। তিনি জানতেন, কাঁটা বৃক্ষ থেকে আঙুর ফল আহরণ করা যায় না। কিন্তু মন তো অবুঝ, সে কারও কথাই শোনে না। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা কবিকে হেদায়েত দান করেন। কবি এবার ওই রমণীর কথা ভুলে আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মত্ত হয়ে যান এবং মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কবি যখন জীবন সায়াহ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তখন মৃত্যুর প্রাক্কালে তিনি এই কবিতাটি লেখেন।
আমার এ মন, বুঝবে কোন জন।
নেই যে প্রণয়, শুধুই গুঞ্জন।
তাই বুঝি এই, রিক্ত জীর্ণ,
তব পদে, দিয়েছে ধর্ণা।
হতে তোমাতে বুঁদ।
যাইনি দূরে, করেছি অর্পণ।
হয়ে পাপী, আমি যে মাপি,
তোমার রহম খুদ।
মত্ত আমি, সিক্ত হৃদয়,
না ঘুমিয়ে, না জাগরণ।
উল্লাসও না, না যে ক্রন্দন।
শির নুয়িয়ে, গুনগুনিয়ে,
পাই খুশবু, হই বুলবুল,
তব ধ্যানে, শির ডুবিয়ে,
হয়ে প্রভাত ফুল।
আজ মৃত্যুতে আকুল।
উঠল হেসে, হৃদ-বাগে গুল,
ঝরল পাপড়ি, বৃন্ত-মুকুল।
আজ বাধা নেই, পেতে তোমায়।
মন এমনই আকুল।
ভয় পেয়ে কই, মৃত্যুতে ভয়।
কে জানিত, এই যে মৃত্যু,
এত সুন্দর হয়।
