হতাশাগ্রস্ত বেকারের কাঁধে পরীক্ষার বোঝা,আর আমার ভ্রমন সমাচার!
ঘটনার সূত্রপাত সেদিন,যেদিন বন্ধু লোকনাথ চক্রবর্তী আমার ইনবক্সে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার রুটিনটি দিয়ে বলল বন্ধু পরীক্ষা তো শুরু হতে যাচ্ছে! বন্ধুবর লোকনাথের মুখে পরীক্ষার কথা শুনে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেলো!যতটা না উদ্বিগ্ন হলাম তার চেয়েও বেশি আতঙ্কিত হলাম পরীক্ষার প্রস্তুতি নেই সেই কথাটি মনে করে! আমাদের মত গড়পড়তা স্টুডেন্টদের উপর হুটহাট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার বোঝা চাপিয়ে দিয়ে যে নির্মম নির্যাতন করে যাচ্ছে তা ইহকালে শেষ হবে কিনা আমার জানা নাই! ২০২৩ সালে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারনে আমাদের ছাত্রত্ব পিছিয়ে গেছে তিন বছর। সহজ সরল হিসাব অনুযায়ী ২০২৩ সালে মাস্টার্স কমপ্লিট হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালের এপ্রিল_মে মাসে এসে তার শেষ হতে যাচ্ছে! করোনার জুজুর ভয় আমাদের শিক্ষাজীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে তিনটি বছর!
এবার মোদ্দা কথায় আসি,পরীক্ষার আগের দিন রাত্রে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে ঢাকার কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম, বাংলাদেশ রেলওয়েতে আপনি ভ্রমণ করলে বুঝতে পারবেন নানান প্রয়োজনে দেশের এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ কি পরিমান যাতায়াত করে থাকে। তাই এক প্রকার যুদ্ধ করেই ট্রেনে প্রবেশ করতে হলো, ট্রেনে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট আসনে বসার পর যাত্রা শুরু হলো। আমার অভ্যাস স্বল্পযাত্রা হোক কিংবা দীর্ঘ যাত্রা বাস-ট্রেন কিংবা লঞ্চে উঠলে আমার ভীষন ঘুম পায়, কেন জানি রাজ্যের সমস্ত ঘুম আমার দুই চোখে ভর করে।অন্য সাধারণ ট্রেনগুলোর মতোই হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনটিতেও নানান রকম জিনিসপত্র ও খাদ্য দ্রব্যের ফেরিওয়ালাদের যন্ত্রণায় আর ঘুমাতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ পরপর তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনের যন্ত্রণা তো ছিলোই। বাধ্য হয়ে কানে ইয়ারফোন গুঁজে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু কেন জানি এক অজানা আকর্ষণে সকল ফেরিওয়ালা এবং হিজরা সম্প্রদায় বারবার আমাকে বিরক্ত করতে লাগল। চরম বিরক্তি নিয়ে চার ঘন্টার নির্ঘুম যাত্রায় অবশেষে ময়মনসিংহ স্টেশনে পৌছালাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখিয়ে রাত্র দুইটা অতিক্রম করেছে, স্টেশনে নেমেই রিকশা করে বন্ধু ইকবালের মেস এ পৌঁছালাম। ইকবালের মেস এ আমি এবং মনির ছাড়াও ইকবাল এবং তার আরেক রুমমেট সহ মোট চারজন পরীক্ষার্থী ছিলাম। পৌঁছানোর পর হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে যখন খোঁশগল্পে মাতলাম, কখন যে রাত্র চারটা বেজে গেল টেরই পেলাম না। পরেরদিন পরীক্ষার কথা ভেবে তাই সকলে ঘুমাতে গেলাম।
আসল ঘটনা শুরু হলো যখন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমাদের কেন্দ্র মুমিনুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পৌঁছালাম। এত এত পরীক্ষার্থী মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে ভাবতেই পারছিলাম না, আনন্দমোহনের যারা পরীক্ষার্থী তাদের সিট পড়েছে সাধারণত দুইটি কলেজে,একটি নাসিরাবাদ কলেজ এবং অন্যটি মমিনুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ। বোর্ড পরীক্ষাগুলো সাধারণত নিরপেক্ষ ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হয়, আমার এবং মনিরের সিট মমিনুন্নেসা কলেজে।কেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখলাম হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। অনুমান করে যা বুঝলাম কম করে হলেও দুই থেকে তিন হাজার ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে এই কেন্দ্রটিতে। সকলের চেহারার মধ্যে তীব্র হতাশা দেখতে পাচ্ছিলাম, কারো ছাত্র জীবন এখনো পর্যন্ত চলে আসলেও কর্মের সন্ধান নেই,কেউবা আগে ভাগে বিয়ে করে ফেসে গেছেন অথবা কেউ পরিবারের বোঝা না টানতে পারার আফসোসে ভুগছেন। মোট কথায় সকল পরীক্ষার্থীর মাঝেই ছিল তীব্র হতাশা, হাসির কথা হল এই সেখানে উপস্থিত অনেক ছাত্রছাত্রীকেই অনেক মুরুব্বী বলে মনে হচ্ছিলো। অনেকে আবার খেয়াল করলাম দুইটা তিনটা বাচ্চা সমেত পরীক্ষা দিতে এসেছে। অবশ্য অনার্সের পরীক্ষাগুলোতেও এরকম সিনারিও দেখেছিলাম। আমার সিট পড়েছিল অনার্স ভবনের তৃতীয় তলায় ৩০৫ নং কক্ষে এবং মনিরের সিট পরল দ্বিতীয় তলার ২২০ নং কক্ষে। ছিট ফেলা হলো একটি বেঞ্চের একপাশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন ছাত্র এবং অর্থনীতির একজন ছাত্র এই গণতান্ত্রিক নিয়মে। আমার বেঞ্চিতে অর্থনীতি ডিপার্টমেন্টের এক পোহাতি মহিলা বসলো, তার চলাচল এতটাই ভারি ছিল তা দেখে আমারই ক্লান্ত লাগছিল। তবে অনার্সের পরীক্ষার সময় নিজ গ্রামের নিজ হাইস্কুলে কেন্দ্র থাকার দরুন দুর্দান্ত প্রতাপ এর সাথে যেভাবে পরীক্ষাগুলো দিয়েছিলাম অর্থাৎ ঘরের মাঠে খেলোয়ার যে বাড়তি সুবিধা পায় এখানে যে সেগুলো হবে না তা স্পষ্টভাবেই ভাবতে পারছিলাম। বিগত দিনে দৈনিক মোমেনশাহী পত্রিকায় আমার কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হওয়ার দরুন, অ্যাটেনডেন্স সিটে নাম এবং ছবি দেখে গার্ডে থাকা শিক্ষিকা মহোদয়া জিজ্ঞেস করলেন ইমরুল কায়েস ইমন কে? আতঙ্কের চূড়ান্ত সীমানায় পৌঁছে গেলাম ভদ্রমহিলার মুখে আমার নাম শুনে, উঠে দাঁড়াতে ভদ্রমহিলা এগিয়ে এসে বললেন দৈনিক মোমেনশাহী পত্রিকায় তোমার লেখা কলামগুলো পড়ি,খুব ভালো লেখো,কিপ ইট আপ! তখন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে লিখতে আরম্ভ করলাম। পরীক্ষার গার্ডে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকা গণ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই পরীক্ষা পরিচালনা করছিলো। যাইহোক কোন রকমে পরীক্ষা শেষ করে পাঁচটার পর যখন কেন্দ্রের বাইরে বের হলাম, তখন দেখা হল বন্ধু অপুরঞ্জন তালুকদার,লোকনাথ চক্রবর্তীর সাথে, আমি এবং মনির চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ওদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে কখন যে সাড়ে ছয়টা বেজে গেল টেরই পেলাম না! হুট করে মনে পড়ল আবার তো ঢাকা ফিরতে হবে, আমি ফিরব ঢাকায় আর বন্ধু মনির ফিরবে গাজীপুরে। দুজনেই রওনা দিলাম ব্রিজ বাসস্ট্যান্ডের ঐদিকে।যারা ময়মনসিংহ আসা-যাওয়া করেন তারা সকলেই জানেন, ময়মনসিংহে ব্রিজের বাস স্ট্যান্ড কতটা ব্যস্ত এলাকা এবং সেখানে শেরপুর,জামালপুর নেত্রকোনা সহ ময়মনসিংহের অনেকগুলো উপজেলার সরাসরি ঢাকা গামী বাসগুলো এদিক দিয়ে যাওয়া আসা করে। তাই দ্রুততম সময়ে ঢাকা পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ওই দিক থেকে কোন বিরতিহীন বাসে ওঠা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের চরমসীমায় পৌঁছালে যা হয় তাই আমাদের সাথে হলো, একটি বাসেও আসন পেলাম না! হয় দাঁড়িয়ে যেতে হবে নতুবা লোকাল বাস ধরে সারা রাত্রে ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে গেলাম মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে সেখানে গিয়েও ঠিক একই অবস্থা সেখানেও কোন বাসে সিট খালি নেই!
অধিক সময় নিয়ে গেলে বাসে ঘুমানো যাবে একথা ভেবে যখন আশ্বস্ত হচ্ছিলাম তখন ভাবতেও পারছিলাম না কি দুর্ভোগ দুর্দশা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।মাসকান্দা বাস স্ট্যান্ড থেকে ত্রিশাল হয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ে দিয়ে বাসগুলো সাধারণত ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালে পৌঁছায়।এই বাসগুলো ১-২ কিলোমিটার অর্থাৎ পাঁচ থেকে দশ টাকা ভাড়ার যাত্রিদেরকেও ওঠায়। দৃষ্টি সীমার মধ্যে থেকে কেউ যদি ইশারা করেন যে আমি সামনের দিকে যাব তাহলে কষে ব্রেক করে দাঁড়িয়ে থেকে তাকে নিয়ে তারপর পুনরায় রওনা শুরু করে!যাত্রীদেরকে কষ্ট দেওয়ায় যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য! বিপত্তি বাধলো তখন,যখন ঘুম ঘুম চোখে টের পেলাম হাঁসমুরগির ডাকাডাকি। চোখ মেলে দেখার চেষ্টা করলাম শব্দগুলো কোন দিক থেকে আসছে দুই সিট পেছনে লক্ষ্য করলাম এক ভদ্রমহিলা হাঁস এবং মুরগি নিয়ে গাজীপুর যাচ্ছেন ওনার বোনঝির বাসায়!হাসঁ_মুরগির সাথে,মুরগি_হাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ডাকাডাকি করছিলো!হাসঁমুরগির ডাকাডাকি,মানুষের শোরগোল,রাস্তার গাড়ির হর্ণে প্রান আমার ওষ্ঠাগত!মাথায় যে খানিকপড়েই তীব্র যন্ত্রনা দেখা দিবে তা ভাবতেই মন বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো!এমতাবস্থায় নির্বাক হয়ে আমি মনিরের দিকে,মনির আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে নির্বাক হয়ে খানিক তাকিয়ে রইলাম!
মনে মনে ভাবলাম,খোদা তুমি কোথায় উঠাইলা!ঘটনা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ধামাচাপা দিয়ে আবার চোখ বুঝে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।খানিকবাদেই আবার নাকে বিকট দুর্গন্ধ অনুভব করলাম,চোখ খুলে ঘটনা আন্দাজ করতে গিয়ে শুনলাম বাসের সকল যাত্রীরা মিলে একজন বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে খিস্তি-খেউর করছে!আর চ্যাপা শুটকি নিয়ে বাসে উঠা ভদ্রলোক নির্মল মুখে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে তিনি মেয়ের বাসায় যাচ্ছেন।মেয়ের জামাই ঢাকায় চাকরী করেন,ঢাকায় ভালো গুনগতমানের চ্যাপাশুটকি না পাওয়া যাওয়াই গ্রাম থেকে উৎকৃষ্ট শুটকি তিনি উপঢৌকন হিসেবে মেয়ে_জামাইয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন!এমতাবস্থায় আমি হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝতে না পেরে আবার চোখ বুজলাম।খানিক পরে হাটুর দিকে একটু ভেজা অনুভব করে ঘুম ভেঙে গেলো,চক্ষুজোড়া খুলেই দেখলাম একটি দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল আমার প্যান্ট চিবিয়ে ভিজিয়ে ফেলেছে!রাগতস্বরে জিজ্ঞেস করলাম ছাগল কার?ছাগল কার?এক ভদ্রলোক পিছন থেকে পান চিবানো মুখে চামচামির হাসি দিয়ে বলে উঠলেন ম্যা_ছাব ছাগল আমার।আমি যখন বললাম আমার প্যান্ট চিবিয়ে ভিজিয়ে ফেলেছে আপনার ছাগল,উনি প্রত্ত্যুতরে ছাগলেজোড়া কে বকাবকি আরম্ভ করলেন!ভাবখনা এমন যেন ছাগলের কাছ থেকে উনি আরও ভালো আচরন আশা করছিলেন,আমার শার্টখানা চিবোলে উনি কৃতার্থ হতেন!আমার রাগ প্রশমিত করার জন্য উনি আমার সাথে খাতির জমানোর চেষ্টা করলেন।উনি বলতে থাকলেন_ ভদ্রলোক ছাগল কারবারি,ইশ্বরগঞ্জ-নান্দাইল-ত্রিশালসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাগল কিনে সেগুলো ঢাকায় গিয়ে বিক্রি করেন।এ যাত্রায় ১৫ খানা ছাগল উনি ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন,বাসের ঢিকির ভিতর ১৩ টা ছাগল চাপাচাপি করে ঢুকিয়ে ২ টি কোথায় ঢুকাবেন সে দীশা না পেয়ে হেল্পারের তারাহুরোয় বাসের ভেতরেই ছাগল নিয়ে উঠে চেপে বসেছেন!ততক্ষনে আমার নিয়মতান্ত্রিক মাথাব্যাথা উঠে গিয়েছে।ভদ্রলোককে কিঞ্চিৎ ইগনোর করে,মনে মনে একটু পরে গরু মহিষও বাসে উঠে যেতে পারে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মনস্তাত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে,বোতল থেকে ২ ঢোক পানি গিলে পুনরায় চোখ বুজে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
- সবশেষ হেল্পারের নামার তাগিদে ঘুম যখন ভাঙলো তখন ঘড়ির কাটায় রাত্র ১:৩০ মিনিট!এতোক্ষণ ঘুমালাম ভাবতেই অবাক হলাম!গতরাতে স্বল্প ঘুম আজকের এই গভীর ঘুমের কারন হিসাবে দায়ী করে বাস থেকে নেমে যাত্রাবাড়ী অথবা এর নিকটগামী কোন বাসের সন্ধান করছিলাম।কিন্তু বলায় বাহুল্য সারাদিন গাড়ির পিছনে পিছনে গাড়ি,বাসের পিছনে বাস থাকলেও আজকের এই মাঝরাতে কোন বাস আমার দৃষ্টিগোচর হলো না!ফাঁকা রাস্তাঘাটের চিত্রপটে আমি ঢাকা শহরের কোন অস্তিত্বই খুজে পাচ্ছিলাম না!মাঝে মাঝে দু-একটি প্রাইভেটকার ও অটোরিকশা লক্ষ্য করলাম।কয়েকটি অটোরিকশা কে সিগন্যাল দিয়েও যখন ওদের দৃষ্টিআকর্ষন করতে পারলাম না,তখন বিরক্তি নিয়ে পা_ভরসায় গন্তব্য অভিমুখে হাটতে লাগলাম।মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নাবিস্কো পেরিয়ে আরও সামনে গিয়ে লক্ষ্য করলাম একটি বলাকা পরিবহনের বাস আসছে।কিছুটা আস্বস্ত হয়ে বলাকাযোগে গুলিস্তান তারপর গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী নাগাদ অটোরিকশাযোগে পৌছাইলাম যখন,তখন রাত পৌঁনে তিনটা!
সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ আজকে যখন আপনারা আমি অধমের এই নিবন্ধ পড়ছেন,তখন বিস্তীর্ণ হাওরের মানুষ ভালো নেই!এক ফসলের হাওরে বর্ষা যেন প্রায় আসন্ন!অতিবৃষ্টি এবং উজানবাহিত পানির ফলে হাওরের সমস্ত নদীগুলো ভরে আছে,হাওরের বিল-ঝিলগুলো পানিতে টুইটুম্বুর।তিল ধারনের ঠাই নেই বলা যায়।যদি সহজ ভাষায় বলতে চাই তবে বলতে হয়,ধান পাকতে আর দিন দশেক লাগবে।কিন্তু প্রায় সকল ধানি জমিতেই মাত্রাতিরিক্ত পানি।অবস্থা এমন হয়েছে আর ১ ফোটা বৃষ্টির পানিও সহ্য করার ক্ষমতা হাওরের কোন গৃহস্তের নেই!কোন কৃষকের মনই ভালো নেই।সারা বছরের কষ্টের ফসল হারানোর এক তীব্র আশংকা সকলের মনমষ্তিষ্কে চেপে বসেছে।২০১৭ সালের হাওরের হাহাকার মানুষের মানসপটে ভেসে উঠছে!সেবছরের পানির মার খেয়ে আমাদের মত আপাদমস্তক গেরস্ত পরিবার বাধ্য হয়েছিলাম গৃহস্তি ছেড়ে দিতে।সেই থেকে খোরাকসর্বস্ব জমিতে ধান চাষ এবং বাকি জমিগুলো লিজ দিয়ে গেরস্ত তকমাটা এখনোও ধরে রেখেছি আমরা।আপনি হাওরের বাসিন্দা হলে অবশ্যই জানবেন হাওরের ফসলের সাথে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষেরই অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।সুহৃদপাঠকগন আজকের কলামের শেষ পর্যায়ে এসে আমি আপনাদের কাছে হাওরবাসীর স্বপ্ন_কষ্টের ১ বছরের ফসলের হেফাজত কামনা করে অবশ্যই দোয়া করার আবেদন করছি।আপনারা কুল_কায়ানাতের মালিকের দরবারে অবশ্যই হাওরবাসীর জন্য দোয়া করবেন।

