রঙিন বর্ষবরণে মুখরিত ইংরেজি বিভাগ

রঙিন বর্ষবরণে মুখরিত ইংরেজি বিভাগ
ক্লাসের সকল ক্লান্তি দূর করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনোদনের আবহ তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কৃষ্ণচূড়া’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।সংগঠনটি যেন ইংরেজি বিভাগের প্রাণ। বিদেশি ভাষায় অধ্যয়নের মধ্যেও যাতে আমরা নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতি ভুলে না যাই এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হয় সংগঠনটি। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কৃষ্ণচূড়া আয়োজন করেছিল একটি রঙিন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। এইবারের আয়োজনের নীতিবাক্য ছিল, ‘বৈশাখ এলো কৃষ্ণচূড়ার ডালে’। বিভাগের সিনিয়র থেকে শুরু করে জুনিয়র সবাই মিলে আয়োজনে অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বৈশাখের এই আয়োজনে বিভাগের ব্যাচ-১৯ তৈরি করে ‘কৃষ্ণচূড়া প্রতিপদ ১৪৩৩’, যেখানে ফুটে ওঠে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা। প্রতিপদ জুড়ে স্থান পায় বিভিন্ন কবিতা ও মুক্তগদ্য, যা বৈশাখের সর্বাঙ্গীণ চিত্র তুলে ধরে। এছাড়াও এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি এবং রম্য বিতর্ক, যা পুরো বটতলাকে মুখরিত করে তোলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারপার্সনসহ অন্যান্য শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন কৃষ্ণচূড়ার সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তিনি নতুন বছরে বিগত বছরের সকল গ্লানি ভুলে আনন্দে পথচলা শুরুর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পরিসরে বর্ষবরণ উৎসব আয়োজনের জন্য চেয়ারপার্সনের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পটচিত্র অঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শুধু বিজয়ী নয়, সকল অংশগ্রহণকারীর পটচিত্রে ফুটে ওঠে বাঙালিয়ানা ও ঐতিহ্যের নানা দিক। অনুষ্ঠানের প্রতিটি আয়োজন ছিল রঙিন ও মনোমুগ্ধকর। শিক্ষার্থীরা পরিধান করেছিল বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়ি ও পাঞ্জাবি, যা অনুষ্ঠানটিকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। পরিশেষে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। কৃষ্ণচূড়া যেন প্রতিবছর এমন আয়োজন উপহার দিতে পারে সেই আশাই ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।
কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, এটি বিভাগের সিনিয়র ও জুনিয়রদের মেলবন্ধনের একটি জায়গা, যা তাদের মধ্যে সৃষ্টি করে এক অটুট বন্ধন।
তামিম নূরানী প্রেমা
ইংরেজি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

