দারুল ক্বিরাত ট্রাস্ট এর কুরআন শিক্ষার চূড়ান্ত পরিক্ষা ও বিদায় অনুষ্ঠান

- দারুল ক্বিরাত ট্রাস্টের কুরআন শিক্ষার চূড়ান্ত পরীক্ষা ও বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন
তানভীর আহমদ রাহী
হবিগঞ্জ চুনারুঘাট নূর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন শাখা কেন্দ্রে প্রথম রমজান থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত নূর নবী (দ.) দারুল ক্বিরাত ট্রাস্টে তাজবীদসহ সহিহ ও শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই শিক্ষাক্রমের চূড়ান্ত পরীক্ষা ২৬ মার্চ ২০২৫ ইং (২৬ রমজান) তারিখে হাজী আলীম উল্লাহ মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার হলে সচিবের দায়িত্ব পালন করেন আলহাজ্ব মাওলানা শেখ মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী। পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নূর নবী (দ.) সুন্নি ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রহমান পীর সাহেব, যিনি সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতিও। পরীক্ষা শেষে ২৭ রমজান (২৮ মার্চ ২০২৫ ইং) বিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্বারিয়ানার পাঠ সমাপ্ত করা হয়।
কুরআন শরীফ শিক্ষা দেওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস ও ইসলামিক শিক্ষা অনুযায়ী অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা ও পুরস্কার রয়েছে।
সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” (বুখারি, হাদিস: ৫০২৭) অগণিত সওয়াব প্রতিটি হরফ পড়ার জন্য ১০ নেকি পাওয়া যায়। নবী (সাঃ) বলেছেন: “আমি বলি না যে ‘আলিফ-লা-মীম’ একটি হরফ, বরং ‘আলিফ’ এক হরফ, ‘লা’ম’ এক হরফ, এবং ‘মীম’ এক হরফ।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০) কিয়ামতের দিনে সুপারিশ করবে রাসুল (সাঃ) বলেছেন: “কুরআন পড়ো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে।” (মুসলিম, হাদিস: ৮০৪) বেহেশতে উচ্চ মর্যাদা নবী (সাঃ) বলেছেন: “যারা কুরআন পড়ে এবং এর ওপর আমল করে, তারা জান্নাতে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী উচ্চতর স্তরে উন্নীত হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৯১৪) দুই ধরনের পুরস্কার
যারা কষ্ট করে কুরআন শেখে, তাদের জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং এতে দক্ষ হয়, সে সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কষ্ট করে পড়তে থাকে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।” (বুখারি, হাদিস: ৪৯৩৭; মুসলিম, হাদিস: ৭৯৮)শ্রেষ্ঠ সম্পদ কুরআন শিক্ষা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।” (বুখারি, হাদিস: ৭১) মৃত্যুর পরও সওয়াব চলতে থাকবে রাসুল (সাঃ) বলেছেন: “যখন মানুষ মারা যায়, তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি জিনিস চলতে থাকে—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা মানুষের উপকারে আসে, এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)
কুরআন শেখা এবং শেখানো শুধু নিজের জন্য নয়, বরং এটি পুরো উম্মাহর জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। এটি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান, মর্যাদা, বরকত এবং জান্নাতের পথ খুলে দেয়। তাই আমাদের উচিত নিজে কুরআন শেখা এবং অন্যদের শেখানোর চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা যেন রমজান এর এই খেদমতকে কবুল করেন।
তানভীর আহমদ রাহী
শিক্ষার্থী: জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা, ষোলশহর, চট্টগ্রাম
আমুরোড চুনারুঘাট হবিগঞ্জ
০১৮৯০০২০৮১৮

