শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / অণুগল্প / নিবন্ধ

প্রাক্তনের স্মৃতিচারণ

Author

MD Moajjam Hussain, Sreemangal Govt College , Sreemangal Govt College

প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ৬০ বার

ঐতিহাসিক জুলাই-২০২৪ এর প্রথম দশকে তার সাথে প্রথমবারের মতো দেখা হয়। সে ছিলো হলদে কাপড়ে আবৃত, তার মুখের মায়াবী হাসি দেখলে যে কারোরই চক্ষু জোড়াবে। আর সেই মায়াবী হাসির আড়ালে তার লাজুক চেহারার মিষ্টি গড়ন ক্ষনিকের জন্য আমাকে ডিপিডিয়ার রাজ্যে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিল।

 

দৃশ্যপট-০১:- স্মৃতিচারণ

আমি এমন এক প্রান্তরে বসে আছি,যে প্রান্তরে একটা সময় কত হলদে পাখির বিচরন হতো। পলাশীর রক্তের প্রান্তর বীরদের পদধূলিতে সরগরম ছিলো। ২১দিবার ব্যাবধানে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে স্থাপনাগুলো। আমি কেনো তোমার শূন্যতার তীব্র ঘাটতি অনুভব করছি। কেউ একজন ঠিক‌ই বলেছিলো, অতিরিক্ত হাসি ভালো না তা কান্নার আলামত। তাই তো ২১দিবার ব্যাবধানে একজন আরেকজন এর এতো দূরত্বে।

এতো পাওয়া না পাওয়ার শহরে এটাই প্রত্যাশা, স্বপ্নের এই পলাশের প্রান্তর, আবার প্রাণবন্ত হবে, জনশূন্য প্রাঙ্গন আবার দোয়েল,চড়ুই, ময়নাদের উপস্থিতিতে সরগরম হবে। সব‌ই হবে শুধু আমিই থাকবো না। তবুও যেখানেই থাকো, সৃষ্টির সকল কল্যাণ আল্লাহ তোমাকে দান করুন।

দৃশ্যপট-২:- স্মৃতিচারণ

আরেকটা দ্রোহের প্রান্তরে আসিয়া বসিলাম, যেখানে বসিয়া এক অন্যরকম অনুভুতি আসিতো মনের মধ্যে, বাতাসের শো শো আওয়াজ, পানির উত্তাল ঢেউ, দৃষ্টিনন্দন গাছপালা ও বিস্তৃত খোলা উদ্যান, এক অন্যরকম অনুভুতি জোগায় মনের মধ্যে, এই জায়গার আসল সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়, বিকেলে কিংবা তীব্র তাপদাহের পর আকাশ যখন ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ছোট ছোট বৃষ্টির ফোঁটা যেনো তাহার কোমল হাতের স্পর্শ। আমার খুব মনে পড়িতেছে ১৫জুলাই বিকেলের কথা। তার কাছে ডং করে একটা অভিযোগ করেছিলাম সে এটা গিয়ে ওর মায়ের কাছে বলে দেয়, উফফফ! আমি তো লজ্জায় শেষ। লজ্জাটা কি করে যে লুকিয়ে রাখি, তাই এসে বসিলাম এই প্রান্তরে।

বিকেলের একটা সুন্দর সমাপ্তি ঘটিলো। সেদিনের মতো এক‌ই বিকেল আজ দৃষ্টির সামনে, সবকিছুকেই আগের মতো অনুভব করিতে পারছি, শুধু তুমি নামক প্রানীটার কোনো অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাইলাম না। কি যে করি, ফের ওই দূর সীমান্তের পাহাড়টার দিকে তাকিয়ে থেকে তোমাকে খুঁজতে থাকি।

 

আজ ১০ আগষ্ট ২০২৪ প্রায় ২৫ দিনের ব্যাবধানে আমরা এতো দূরবর্তী হ‌ইয়া গেলাম একে অন্যের। তোমার স্মৃতিগুলো অক্ষত রহিয়া গেছে। শুধু তুমিই কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেলে প্রিয়।

জানি না ফের কবে দেখা হবে পলাশীর এই স্বপ্নের প্রান্তরে।

_১০/০৮/২০২৪ইং

 

দেখা হয়েছিলো খুব সম্ভব সেপ্টেম্বরের শুরুতে। দোয়ারের পাশে দাড়াইয়া ঝাঝালো রৌদ্রকে অতিক্রম করিয়া ব্রেক‌আপের পর তার সাথে প্রথম সাক্ষাতে এক পলক চোখে চোখ মেলার পর সে ক্ষনিক হেসে আবার তার অরবিটে পরিভ্রমণ করিতে লাগিলো। সৃষ্টিকর্তা তার কল্যান করুন।

___ ১১/১১/২০২৪ইং (কোন দিক দিয়ে টাইম যায় বে) 🙈

 

দৃশ্যপট-৩:- স্মৃতিচারণ

পলাশের স্বপ্নের প্রান্ত থেকে ফিরিয়া আসি ১৯জুলাই। তারপর সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হ‌ইয়া যাই তাহার থেকে, খুব মনে পড়ে তাহার কথা। কবিতা লিখি, গল্প লিখি, রবীন্দ্র মোহ শুনি। ক‌ই তাহার শূন্যতার তীব্রতা আর মেটানো যায় না। এভাবেই দিন গেলো রাত এলো, রাত গিয়ে দিন এলো, তাহার দেখা আর মিলিলো না। একটা দিনের সূচনা টা অনেক শুভ ছিলো। সে আসিবে আমাদের আঙিনায়। তাহার জন্য রাজকীয় সব আয়োজন, দ্যাত, মুহুর্তেই একটি খারাপ খবর শুনিতে হ‌ইলো, তারা আসিবে না। পলাশের রাজপ্রাসাদের আঙিনায় আলোয় আলোকিত হ‌ওয়া সূর্য শায়িত হ‌ইলো তার রবের কদমে। সৃষ্টিকর্তার পা থেকে উঠিয়া সে আবার নতুন দিগন্তের সূচনা করিলো, ঘোষনা আসিলো, পলাশের প্রান্তরের যোদ্ধারা বিজয়ের আঙিনায় আস্তানা গারিবেন। হৃদয় দিয়ে আলাদা একটা প্রশান্তি অনুভব করিলাম। আমি তাহার অপেক্ষা করিতে থাকিলাম, ক‌ই সে আর আসিলো না। বেলা তখন ১২:৩০ এর দিকে তাদের রনযাত্রা অবতরণ করিলো বিজয়ের আঙিনায়। কালো মুখুশে আবৃত আমার গল্পের মহারানীকে অস্বাধারন লাগছিলো, তা বলে বোঝানোর মতো না। তাকে সাধুবাদ জানিয়ে, আমি রাজপ্রাসাদে ঢুকার জন্য আহব্বান করিলাম, রনযাত্রার বীর যোদ্ধারা অস্ত্র-ঢালসহ সম্মুখে অগ্রসর হ‌ইতে লাগিলেন। সবাই বিজয়ের আঙিনায় প্রবেশ করিলেন।

সবার সাথে করমর্দন ও সাক্ষাত করিবার পর সবাই নিজ নিজ আসনে সমাসীন হলো এক নীরব নিবৃত শুরায়।আমাদের মোহের বিনিময়‌ও চলিতে থাকিলো।

✍️ ১১/০৮/২০২৪ ইং, রাত ১২:৪৪AM

যতোটা সহজ‌ভাবে‌ এখানে ঘটনাপ্রবাহকে‌ স্থান‌ দেয়া হ‌ইয়াছে বাস্তব প্রেক্ষাপট‌ তাহার চেয়ে কঠিন ছিলো।সেই ভোরটি এমন ছিলো, প্রভাতের ফেরি তার কিরণ বিস্তৃত করিতে‌ থাকে, সর্ব‌অবয়বে। স্বপ্নের পলাশের প্রান্তর আবার প্রাণবন্ত হ‌ইতে লাগিলো এক ভিন্ন আঙ্গিকে। নতুন নতুন অতিথি পাখিদের আগমনে নতুন রুপে স্বজ্জিত হ‌ইতে লাগিলো, পলাশের প্রান্তর। অন্যান্য দিনের মতো আর তাহাকে, কোমর বেঁধে ঘর ঝাড়ু দিতে দেখি না। আজকে তার জীবনের অন্যতম একটা বিশেষ দিন বলিয়া কথা। কোনো এক সৌভাগ্যবান রাজপূত্র আমাদের রাজকুমারীকে তাহার ঘরের বধু করিয়া নিবার ইচ্ছা পোষন করিয়াছে। আমি এটা ভাবছি,

সেইদিন মেঘাচ্ছন্ন রাত্রিতে সে আমাকে বলেছিলো,”আমরা কবে দুজন একসাথে নিশ্চিন্তে দরজা লাগিয়ে তোমার কুলে ঘুমাবো?”, মনের মধ্যে আলাদা একটা শান্তি অনুভব করিয়াছিলাম ইহা শুনার পর। সে আমাকে আরো বলেছিলো, “যদি কোনো কারনে আমরা আলাদা হয়ে যাই তাহলে আমার সামনে তুমি তোমার নব জীবন সঙ্গীনিকে কোনো প্রকার আদর যত্ন করিবে না, ইহা করলে আমার প্রচুর কষ্ট লাগবে”। উফফফ্ সেই স্বপ্নের রাজকুমারীটাই না কিনা আমাকে ছেড়ে আজ আমার সামনে কোনো এক সৌভাগ্যবান রাজপূত্রের হাত ধরে আমার চোখের সামনে দিয়ে লাল শাড়ি পড়ে যাবে। বিষয়টা অনেক লোমহর্ষক।

দেখতে দেখতে বেলা ১১টা। বরপক্ষের ক্বাফেলা অবতরণ করলো দ্রোহের প্রান্তরে। তবে আর যাই বলো, আমার প্রাক্তনের জীবনসঙ্গীনিটা অস্বাধারন ছিলো।ঠিক আমার প্রাক্তনের মতো মিষ্টি, সুদর্শন, সুঠাম দেহের অধিকারী, মিষ্টি হাসি ও অনেক ভালো লোক, তাই হয়তো মহান সৃষ্টিকর্তা এই হতভাগার কপালে একে না দিয়ে ওই রাজপূত্রের হাতে সোপর্দ করেছেন।

ভাবছি, ইশশশ আমাদের কত সুন্দর পরিকল্পনা ছিলো। আমরা সংসার করবো, আমাদের প্রথম একটি মেয়ে হবে যার নাম হবে আদিবা, তারপর আবার নাম পরিবর্তন করি এবার দিলাম ইক্বরা, তারপর আবার নাম পরিবর্তন করে কি রেখেছিলাম তা সঠিক স্বরনে নেই।

যাক এসব ভাবতে ভাবতে একটা পর্যায়ে দেখতে পেলাম বর সাহেবকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কনের সম্মুখে।কাবিননামা পড়ানো হবে। কাজী সাহেব নিতান্ত‌ই আমার পরিচিত মানুষ। শুরু হলো ইজাব পাঠ, স্বাক্ষী, বর ও কনে সবাই শুনছিলেন ইজাব। তবে হৃদয়ের গহীন তলে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রনা অনুভূত হলো তখন যখন কাজী সাহেব আমার লক্ষীটাকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, বলো মা কবুল। কিছুক্ষণের জন্য আমি এক যন্ত্রনার সাগরে পতিত হলাম, যে সাগর আমায় এমন এক নদীর মোহনায় এনে দাঁড় করালো, যেই মোহনা থেকে, সরাসরি মহাকালের স্রোতে ভেসে যেতে হয়, এক অনন্ত অফুরন্ত দিগন্তের দিকে, যে দিগন্ত পরিপূর্ণ বিক্ষিপ্ত অগ্নিদাহে। আমার খুব মনে পড়ছিলো আমাদের প্রথম প্রেমে পড়ার কথা।

✍️ ০৮/১০/২০২৪ইং

বিচ্ছেদের ২মাস ১০দিন পূর্ণ হলো।

 

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই,চিরদিন কেনো পাই না,

কেনো মেঘ আসে হৃদয় আকাশে,

তোমায় ভুলিতে দেয় না।।

ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তাহারে দেখিবার সৌভাগ্য আমার ভাগ্যে বেশিক্ষন স্থায়ী রইলো না। গল্পের সূচনা হ‌ইবার আগেই ইহার ইতি টানিতে হ‌ইলো। আমার খুব‌ই মনে পড়িতেছে, সেই পড়ন্ত পড়ন্ত বিকেলের কথা, যেই পড়ন্ত বিকেলে তাহার আঙিনায় তাহার সাথে বসে আমরা চা আলাপে ব্যাস্ত ছিলাম। কালের বিবর্তনে ইহা এতো দ্রুত‌ই ফুরিয়ে গেলো যে, আজ দুজনি দুজনার এতো নিকটে হ‌ইবার পড়েও অবস্থাটা এমন কেউ‌ই কাউকে চিনি না।

আজ ৮অক্টোবর ২০২৪। আজকের বিকাল টা একটু ব্যাতিক্রম। চারপাশ বৃষ্টিতে স্নিগ্ধ হয়ে আছে। আমি পড়ে আছি সেই ঐতিহাসিক দ্রোহের প্রান্তরের আঙিনায়। দ্রোহের প্রাঙ্গনটা সবুজ পাতালতার আদলে এক বিষন্ন রুপ ধারন করেছে। ইহা কিন্তু প্রকৃত‌ অর্থে বিষন্ন না। ইহা আমার ভালোবাসার একটু ঝাঝালো প্রতিক্রিয়া। আসলে কিন্তু দ্রোহের প্রান্তর সবুজ পাতা লতার আদলে তার রুপের সৌন্দর্যকে প্রদর্শন করছে, দ্রোহের প্রান্তরে বসা লেখককে। সে জানে লেখক কোন স্বত্ত্বার তীব্র ঘাটতি অনুভব করিতেছেন এই প্রান্তরে, হোক সেই স্বত্বা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে কিন্তু প্রকৃতি তো আর মানুষের মতো হারিয়ে যায় না মধ্যপথে, প্রকৃতি তার সর্বস্ব দিয়ে তার রুপের মহিমায় আবৃত করে রাখে মানুষকে। থাক! এই দ্রোহের প্রান্তরের ইতিহাস এতো সহজে বিস্তর আলোচনা করা যায় না। অন্য কোনোদিন লিখবো এটা নিয়ে। আঁধারে ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ। দাঁড়াও, ইহার একটু নমুনা তুলে রাখি স্মৃতিপটে।

 

“ওহে আর কারো পানে চাহিবো না আর,

করিবো হে আমি প্রাণপণ,

ওহে তুমি যদি বলো এখোনি,

করিবো বিষন বাসনা বিসর্জন।।”

দৃশ্যপট-০৪:- শেষবার যখন তার সাথে সাক্ষাত হয়

কোনো এক স্নিগ্ধ বারিধারায় তুমি ভিরেছিলে আমার পানে, কত আনন্দময় ছিলো সেই ক্ষন। আবার এক রজনী ব্যাবধানের পর, চলে যাচ্ছো ধূমকেতুর মতো। তুমি আলোর বেগের চেয়েও বেশি গতিশীল। তুমি সবকিছুকে লক্ষীর মতো করে আগলে রাখো। আমার প্রচুর ঈর্ষা হচ্ছে, সেই মানুষটার কথা ভেবে, যে তোমাকে পাবে। তুমি হয়তো তাকে রাজকুমারের মতো আগলে রাখবা।আমার জীবনের প্রতিটা মায়ার জিনিস কখনোই স্থায়ী হয়ে থাকলো না।

তোমাকে নিয়ে যাওয়ার গাড়িও চলে আসছে, তবে এই যাত্রায় আমার খুব মনে পড়বে, তুমি বারবার এসে বলছিলে, “দেখো না কমছে নি আমার মুখোর দাগ, দেখো না, না তুমি মিছা মাতরায়, দেখো না বালা ঠিকানে কমছে নি? কমছে যে জ্বালাপোড়া করে কেনে?” আমার যদি সাধ্য থাকতো, “তাইলে তোমারে এমন ঔষধ দিলাম নে যে তোমার মুখোর আর কোনো দাগ থাকলো নানে”।

আমি তোমারে কোনোদিন ভুলতাম নায়। আমাদের ব্রেক‌আপের টাইমের বিষাক্ত দিনগুলোর কথা। সেইদিনের মতো লাগছে আজকের দিন। ভালো থাকো।তোমাকে নিয়ে আমার পূর্ণাঙ্গ অনুভূতি কোনোদিন‌ই কলম দিয়ে পূর্ণ করা যাবে না।।

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!