আরবের পথে
আরবের পথে
হেরা হতে হেলে দুলে,
নুরানী তনূ কে আসে ও হায়,
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায়,
সে যে আমার কামলিওয়ালা কামলিওয়ালা।।
~ কাজী নজরুল ইসলাম
কল্পনার জগতের এই সফর আজ এমন এক গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হয়েছে, যে গন্তব্যের মঞ্জিল ধুধু মরু প্রান্তর অতিক্রম করে সুদূর আরবের মদিনা শহরে। যে শহরে শায়িত আছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কতশত সাহাবায়ে কেরাম, উম্মাহাতুল মু’মিনিন সহ আরো অনেক স্মৃতি বিজড়িত এই মদিনা শহর। দিনটি ছিল সোমবার, ব্যাগ সামানা গুছিয়ে আমরা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে রওয়ানা হলাম, আমাদের ফ্লাইটটি রাত ৩ টায় ছেড়ে যাবে, জেদ্দা এয়ারপোর্টের দিকে। মনের মধ্যে খুবই আনন্দ কাজ করছিল এটা ভেবে, আজ আমি এমন এক মনজিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যে মানজিলের দিকে গমনের প্রত্যাশী হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ নবীপ্রেমিকরা। ছোটবেলা মুরুব্বিদের মুখে শুনেছিলাম কেবলমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরাই এই সকল জায়গায় যেতে পারেন। মনে মনে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম যে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাকে মদিনাতুল মনোয়ার দিকে সফর করার মত সৌভাগ্যবানদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আজকের রাতটাও অনেক সুন্দর, আকাশে তারারা ঝলমল করছে, চাঁদটাও অন্যান্য দিনের চাইতে আজ একটু বেশি আলোকিত এবং বড় হয়ে দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে। পরিবেশের মধ্যেও কেমন যেন শিথিল অবস্থা বিরাজ করছে, রাতটা এমন মনে হচ্ছে যেন আজকে না আছে গরম না আছে ঠান্ডা একটা সাম্য অবস্থা বিদ্যমান। এরই মধ্যে এয়ারপোর্টে ঘোষণা দিল জেদ্দাগামী বিমানটি রাত তিনটা নাগাদ যথাসময়ে ছেড়ে যাবে, যাত্রীদেরকে ওনারা নির্দেশ দিয়েছেন বিমানে অবস্থান নেয়ার জন্য। আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে রওয়ানা দিলাম। বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন করল, সারি সারি মেঘ ছুই ছুই অবস্থা উৎফুল্ল মনকে আরো উৎফুল্ল করে তুলছিলো। এরই মাঝে আমার প্রচুর ঘুম পেল, আমিও একটু ঘুমিয়ে নিলাম যাত্রার এই ফাঁকে। ঘুম ভেঙে উঠতেই দেখি পাইলট সাহেব ঘোষণা দিচ্ছেন, আমাদের বিমানটি অতিসত্বর জেদ্দাতে অবতরণ করবে। অবতরণের পর আমরা এয়ারপোর্ট থেকে বাসে করে সোজা স্থানীয় একটি হোটেলে উঠবো। পরদিন সকাল মদিনার উদ্দেশ্যে আমরা ট্রেনে রওনা দেব।

