প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করতে হবে
https://eamardesh.com/2026-06-08/edition-2/4/187859
প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করতে হবে
বই মানবসভ্যতার জ্ঞান ও চিন্তার অন্যতম প্রধান বাহক। যুগে যুগে বই মানুষের কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হওয়ায় অনেকেই বইয়ের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন সারাংশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে দ্রুত তথ্য পাওয়া গেলেও গভীর চিন্তা ও উপলব্ধির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে, শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ এখন বইয়ের বদলে মোবাইল গেম ও শর্ট ভিডিওতে বেশি সময় ব্যয় করছে, যা তাদের মনোযোগ ও ধৈর্য কমিয়ে দিচ্ছে। বই শুধু তথ্য দেয় না, মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়। ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান কিংবা জীবনী-সব ধরনের বই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে এবং নতুন স্বপ্ন দেখায়। বই থেকে দূরে সরে গেলে সমাজে সহনশীলতা, সৃজনশীলতা ও যুক্তিবোধও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রযুক্তিকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। ই-বুক, অডিওবুক ও অনলাইন লাইব্রেরির মাধ্যমে বই পড়ার নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন বই পড়ার সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উৎসাহিত করা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে এ বিষয়ে আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। অভিভাবকদের শিশুদের হাতে বই তুলে দিতে হবে এবং শিক্ষকদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহ দিতে হবে। বইহীন প্রজন্ম মানে শুধু পাঠাভ্যাসের অভাব নয়, বরং চিন্তার গভীরতা ও মানবিক মূল্যবোধের সংকট। তাই আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য বইকে আবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা জরুরি।
