বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / খোলা চিঠি / নিবন্ধ

অপচয় বন্ধ হোক

Author

কাজী মালিহা আকতার , চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ পাঠ: ১০৩ বার

খাদ্য জীবনের অপরিহার্য উপাদান। খাদ্য ছাড়া কোনো জীবের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব না। কিন্তু খাদ্যের অপচয় জীবমণ্ডলে নিয়ে আসতে পারে অকল্পনীয় বিপর্যয়। ইউএনইপি ২০২১ সালে ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স নামে রিপোর্ট প্রকাশ করে যাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে এক কোটি ৬ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। ইউএনইপির ওই ইনডেক্স অনুযায়ী একজন বাংলাদেশী বছরে ৬৫ কেজি খাদ্য উপাদান কিংবা তৈরি খাদ্য নষ্ট করেন। বিভিন্ন কারণে খাদ্য অপচয় হয়ে থাকে। যেমন- ফসলের ক্ষতি, সঠিক সংরক্ষণ না করে উৎপাদন, পরিবহনে সমস্যা, দোকানে খাবার নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত খাবার মজুত করা, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ফেলে দেওয়া, অতিরিক্ত খাবার রান্না

ঠেকা ইত্যাদি।

বাদ্য অপচয়ে শুধু যে খাবারের অপচয় হয় তা নয় সাথে পানির অপচয়, জ্বালানির অপচয়, সময়ের অপচয়, অর্থের অপচয়, জমির অপচয় ও শ্রমের অপচয় হয়। এ ছাড়া খাদ্য অপচয় পরিবেশেরও ক্ষতি করে। খাদ্য অপচয়ের ফলে খাবার ফেলে দিলে তাতে পচন ধরে গ্রিন হাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়। গ্রিন হাউস গ্যাস বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তর নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অতিবেগুনি রশ্মি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ত্বকের ওপরে পড়লে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। খাদ্যের অপচয়ের কারণে খাদ্যাভাব তৈরি হয়। ফলে অনেক সময় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। খাদ্যের অভাবে অনেক মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগে। তাই আমাদের খাদ্য অপচয় রোধে অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিগত বছরে আমরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সম্মুখীন হয়েছি। এ বছরে যাতে তা না হয় তার জন্য খাদ্য অপচয় কমাতে হবে। তাই সবাইকে খাদ্য অপচয় রোধে সচেতন হতে হবে।

লেখক: অর্থ সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!