অনুষ্ঠানের নামে অশ্লীলতা বন্ধ করুন
বর্তমান সময়ে প্রায় সব জায়গাতে অনুষ্ঠানের একটি টেন্ড হিসেবে চালু হয়েছে অশ্লীলতা। আধুনিকতার নামে বিভিন্ন ধরনের মেলা, কনসার্ট বা পার্টিতে উগ্র বা কুরুচিপূর্ণ প্রদর্শনী দেখা যায়। আর দেশের তরুণ সমাজ ও নতুন প্রজন্ম সংস্কৃতির নামে এই অপসংস্কৃতিকেই প্রতিনিয়ত ধারণ করছে। যা একদিকে আমাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় করছে অন্যদিকে নৈতিকতার স্খলন ঘটাচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মধ্যে দিয়ে ভাইরাসের মতো শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও দ্রুততার সাথে এই অপচর্চা ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামের বিয়ে-খাৎনার অনুষ্ঠানে দেখা যায় অতি উচ্চ শব্দে অশালীন গান ও নাচ পরিবেশনা। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, ইদানিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এসব অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার দৃশ্য বেশি দেখা যাচ্ছে। নবীন বরণ, রেগডেতে স্কুুল-কলেজেগুলোতেও এসবের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এসএসসি ২০২৬ বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ধরনের অশ্লীলতা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি তা সত্যিই হতাশাজনক। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষা যে দেশ গঠনের কারিগর সেই বিশ্বাসের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান জ্বালানি সংকটে দেশের এই বিপর্যস্ত অবস্থায় যেখানে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে, এরুপ পরিস্থিতিতে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের এমন দৃশ্য সত্যিই ন্যক্কারজনক। দেশের সংকটকালে অপচয়জনিত কাজের বিষয়টিকে প্রশাসনিকভাবে শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করছি। পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন সৃষ্টি এবং সামাজিক সচেতনতার জন্য অভিভাবক ও সকল শ্রেণির মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এসে অপসংস্কৃতির বিষয় সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।

