শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

প্রাথমিকেই শিখন ঘাটতি

Author

বাপ্পাদিত্য চৌধুরী প্রবাল , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ১০ বার

প্রাথমিকেই শিখন ঘাটতি

একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা। এই সময়ে একটি শিশু পড়তে শেখা, লিখতে শেখা, সংখ্যা ও গণিতের মৌলিক ধারণা অর্জন এবং নিজের চারপাশকে বোঝার ভিত্তি তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই ধারণাটি হতাশার । অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর পার করেও শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে ব্যর্থ। কেউ ঠিকমতো রিডিং পড়তে পারে না, কেউ সহজ বাক্য লিখতে পারে না, আবার অনেকেই সাধারণ যোগ-বিয়োগের সাধারণ হিসাব কষতে সমস্যায় পড়ে। এর ফলে প্রাথমিক স্তরেই তৈরি হচ্ছে মারাত্মক শিখন ঘাটতি, যার প্রভাব পরবর্তী সময়ে পুরো শিক্ষাজীবনে বয়ে বেড়াতে হয়। শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী যে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করার কথা, তা অর্জিত না হলে তাকে শিখন ঘাটতি বলা যায়। এটি শুধুমাএ পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া নয়; বরং শিশুর শেখার মৌলিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাওয়ার বিষয়। এই শিখন ঘাটতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশেই এখনো মুখস্থনির্ভর। শিশু সঠিক কোনো বিষয় বুঝেছে কি না, সে বিষয়টি প্রয়োগ করতে পারছে কি না। তার চেয়ে পরীক্ষায় কত নম্বর পেল, সেটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয় বোঝার বদলে উত্তর মুখস্থ করার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা সম্ভব হলেও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত হয় না। দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শেখার পার্থক্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। একই শ্রেণিতে কোনো শিশু দ্রুত শেখে, আবার কোনো শিশুর একটি বিষয় বুঝতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো সিলেবাস শেষ করার চাপ থাকায় পিছিয়ে পড়া শিশুকে আলাদা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। ফলে এক শ্রেণির ঘাটতি নিয়েই শিশু পরবর্তী শ্রেণিতে উঠে যায়। শিখন ঘাটতির আরেকটি বড় কারণ হতে পারে শিক্ষক-স্বল্পতা, প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ। একজন শিক্ষককে যদি অনেক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব সামলাতে হয়, তাহলে প্রত্যেক শিশুর দুর্বলতা শনাক্ত করে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়, কিংবা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশের পার্থক্যও শিখন বৈষম্য বাড়াতে পারে। তবে সমস্যার সমাধান শুধু নতুন বই ছাপানো কিংবা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো নয়। প্রয়োজন শিশু কী শিখেছে, তার নিয়মিত ও সঠিক মূল্যায়ন। পড়া, লেখা ও মৌলিক গণিতকে প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা, পুনরুদ্ধারমূলক শিক্ষা এবং শিক্ষককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষা যদি একটি ভবনের ভিত্তি হয়, তবে শিখন ঘাটতি সেই ভিত্তির মহাফাটল। ওপরের তলা যতই সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হোক, ভিত্তি দুর্বল থাকলে পুরো ভবনই ঝুঁকিতে থাকে। তাই শিশুরা শুধু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, তা দেখার পাশাপাশি তারা সত্যিই শিখনফল কতটুকু প্রায়োগিক এই বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে।
লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।