পাহাড় দেখা বাকি
পাহাড় দেখা বাকি
জানালা গলে এক চিলতে রোদ বিছানাতে নামে,
ঘরকুনো ওই মেয়েটি রোজ বন্দী নিজের খামে।
বইয়ের পাতায় সবুজ খোঁজে,মেঘের ডানা আঁকে,
কখনো বা ইচ্ছেগুলো ডায়েরির পাতায় চেপে রাখে।
টেবিলের ওপর চায়ের কাপে একলা জমে ধোঁয়া,
ঘরকুনো এই স্বভাব আমার,বাইরের না পথ ছোঁয়া।
বাইরে যাওয়ার নাম শুনলেই বুকের ভেতর ভয়,
চেনা ঘরের কোণটি তাহার পরম আশ্রয়।
তবুও মনে লুকিয়ে আছে একলা চরের পাখি,
সব দেখা তার ফুরিয়ে গেলেও—পাহাড় দেখা বাকি!
কখনো তার ভাবতে ভালোই লাগে গভীর রাতে,
দাঁড়াবে সে কুয়াশা আর মেঘের সাথে সাথে।
যার পাথুরে বুক চিরে যায় ঝরনা ধারার জল,
যার চূড়াতে মেঘেদের ওই মেঘপিওনের দল।
পাহাড়ি এক ছোট্ট পথে ইচ্ছেমতো হাঁটা,
মুছবে মনের খাঁচায় চেনা একাকীত্ব কাঁটা।
দেয়ালগুলোর ওপারেই যে পাহাড় আকাশ ছোঁয়,
সেই পাহাড়ের ডাকেই কেবল ঘরের মায়া খোয়ায়।
একদিন ঠিক কাটবে দ্বিধা, ভাঙবে ঘরের রাখি,
মেয়েটি চিনে নেবেই—যার ওই পাহাড় দেখা বাকি।
জান্নাত আক্তার শিলা
শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, রসায়ন বিভাগ।