আমরাই পারি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে

আমরাই পারি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে
তানভীর আহমদ রাহী
আমি চাই আমার দেশ পরিচ্ছন্ন থাকুক। আমার আশপাশের সব কিছু পরিচ্ছন্ন থাকুক। আমার একার চাওয়াতে কোনো কিছুই হবে না। আমি যখন আমরাই পরিণত হবে, তখনই সম্ভব পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া। আমরা নিজে পরিষ্কার থাকি, আমাদের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখি। আমরা যখন রাস্তায় চলাফেরা করি, কোনো স্থানে বসে আড্ডা দেই, তখন যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা রেখে যাই। আমাদের চারপাশ যেন ময়লার স্তূপ। আমরা সচেতন হলেই আমাদের চারপাশ নোংরা হয় না। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় তাদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন। তারা যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা রাখে। আমরা যদি নিজে সচেতন হয়ে অন্যদের সচেতন করি, আমরাও পরিচ্ছন্ন দেশ উপহার দিতে পারব নতুন প্রজন্মকে। গ্রাম অঞ্চলে কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও শহরের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপের দিকে। শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না দুর্গন্ধের জন্য। এমন পরিবেশ দেখে শিশু-কিশোরীর স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অপরিচ্ছন্ন থাকার ফলে আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনেও নানা প্রকার প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়। ময়লা আবর্জনার যত্রতত্র ফেলার কারণে মশার উপদ্রব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ময়লাগুলো গরমের সময় ধুলোবালি হয়ে মানুষের নাকে-মুখে প্রবেশ করে, যার ফলে নানা ধরনের রোগজীবাণু হয়। এখনো যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে, চলাফেরা করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। জায়গায় জায়গায় ডাস্টবিন থাকলেও আমরা নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা রাখি না। যেই জায়গায় ডাস্টবিন নেই, আমরা চাইলে সেই জায়গার ময়লাগুলো আমাদের পকেট কিংবা ম্যানিব্যাগে রেখে পরবর্তীতে যেখানে ডাস্টবিন পাবো, সেই স্থানে ফেলে দিতে পারি। শহরে সিটি কর্পোরেশন ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে, তবে প্রতিদিন সব সময় তাদের পক্ষে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিডি ক্লিন পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করে প্রতি সপ্তাহে, তার পরেও ময়লা আবর্জনা আমাদের চারপাশ ঘিরে। যখন আমরা সকলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলবো এবং অন্য জনকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলার কথা বলবো, তখনই পরিচ্ছন্ন দেশ রূপান্তরিত হবে।
তানভীর আহমদ রাহী
শিক্ষার্থী : অনার্স প্রথম বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, চট্টগ্রাম কলেজ
লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত।

