শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

অনুভূতির ভাঁজে প্রকৃতির খোঁজে আপেক্ষিকতা

Author

স্নেহা ফেরদৌস মীম , গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ৮ বার

আমার সারাটা জীবনই কেটেছে শহরে।বড় হওয়া, বেড়ে ওঠা, সবকিছুই শহরের চার দেয়ালের একটি পড়ার টেবিলের কংক্রিটের মাঝে। তাই গ্রাম বাংলার অপার প্রকৃতিকে কখনো কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। অথচ প্রকৃতির প্রতি এক অদ্ভুত টান আর অপার ভালোবাসা ছিল সারা জীবনজুড়ে। মনে মনে প্রার্থনা করতাম—একদিন যেন গ্রামের মাঝে আমার একটা ছোট্ট ঘর হয়! চারপাশে সবুজের ছোঁয়া, আর সেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে ডুবে লিখে ফেলব দু-চার লাইন অব্যক্ত কবিতা…

 

ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসগুলোও খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতাম। এটা আমার বেশ বড় এক বদঅভ্যেস। এই পর্যবেক্ষণের নেশায় এতটাই ডুবে থাকতাম যে মায়ের কাছে কম বকুনি খেতে হয়নি। তখন মনে হতো কবে আসবে সেই সময়, যখন মায়ের শাসন থাকবে না, আমি নিজেই হব নিজের অধিকত্রী তখন ইচ্ছে মত দিনভর সবকিছু শুধু পর্যবেক্ষণ করবো আর তা তুলে রাখব ডাইরির ভাজে ভাজে, বাস করবো প্রকৃতির মাঝে গ্রামীণ পরিবেশে যেখানে থাকবে না কোন শাসন বারণ কিংবা পড়তে বসার আল্টিমেটাম। মোটকথা নিজের নিয়মে নিজের মতো করে বাঁচব! সারাটা দিন শুধু দেখব, অনুভব করব, আর ডায়েরির পাতায় জমা করে রাখব সেই সব ছোট ছোট অনুভূতিগুলো।

 

আজ এই বয়সে এসে হলেও, সেই স্বপ্নটা যেন কিছুটা পূরণ হয়েছে।যেখানে সাধারণত মানুষ গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি জমায়, সেখানে আমি হাঁটলাম ঠিক উল্টো পথে! শহর থেকে গ্রামে এলাম পড়াশোনার সূত্রে! কিন্তু এই পরিবর্তনটা সহজ ছিল না। পরিবার ছাড়া মাকে ছাড়া প্রথমবার থাকা, নতুন পরিবেশ,মানিয়ে নেয়া আর একাকিত্ব সব মিলিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত যেন একটু একটু করে আমাকে অবরুদ্ধ করে দিচ্ছিল! সে কি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি কেবল আমিই জানি! সেই এখানে এসেও ঘরবন্দি থেকে একটা বছর লড়াই করে গেলাম কেবল মানিয়ে নিতেই, এখনো পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারিনি।

 

তবুও, যখন ক্যাম্পাসের ফুলগুলো, বৃক্ষাচ্ছাদিত রাস্তা গুলো, টুকরো প্রকৃতি গুলো যাওয়া আসায় পথে অবলোকন করি তখন মনে হয়, জীবনে কত কিছুই না দেখা হয়নি! শহরে বড় হয়ে কত কিছুই না মিস করে গেছি।

 

শহরে যেসব গাছ আমরা ইনডোর প্লান্ট হিসেবে যত্ন করে ঘরের ভেতর সাজিয়ে রাখি, সেসব গাছই এখানে অযত্নে পড়ে থাকে পথে প্রান্তরের আনাচে কানাচে । গ্রামের মানুষের চোখে সেগুলোর কোনো বিশেষ মূল্য নেই। অথচ আমার কাছে সেগুলো বিস্ময়ের মতো অপরূপ,অনন্য।

 

একেই হয়তো বলে স্থানগত উপযোগ। কোনো কিছুর মূল্য আসলে নির্ভর করে স্থান, কাল আর প্রেক্ষাপটের ওপর। তা মানুষ হোক বা তৃণলতা।তাই বর্তমানে যদি আপনি অনুভব করেন যে আপনার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না তাহলে স্থান পরিবর্তন করুন।এখন যদি বলি আমাদের রাস্তাঘাটে আনাচে কানাচে হয়ে থাকা রুয়েলিয়া ফুল যেটাকে আমরা বনফুল নামে বেশি চিনি সেটা কিন্তু বিভিন্ন দেশে চাষ করা হয় ঔষধি হিসেবে।কি অদ্ভুত না? আমরা যেটাকে পায়ে দলে চলে যাই সেটা অন্য কোথাও ব্যবহৃত হচ্ছে অব্যর্থ ঔষধি হিসেবে! সবকিছুর মূল্যই আসলে আপেক্ষিক!

 

এ কারনেই হয়তো ছোট ছোট, তুচ্ছ বলে মনে হওয়া জিনিসগুলো আমাকে এতটা আলোড়িত করে। আমি খুঁজে পাই অজস্র ক্ষুদ্র সত্য, যেগুলো অন্যদের কাছে হয়তো অদ্ভুত লাগে।

 

কিন্তু তারা কি জানে আমার মনের খবর?ছোট ছোট জিনিসগুলো আরম্বড় করে উদযাপন করার ইচ্ছের খবর?

নাহ জানে না!!

লেখক: N/A, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!