হাওরাঞ্চলে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা জরুরি।
ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিবেচনায় নিয়ে নিঃসন্দেহে বলা যায় দেশের প্রতিটি জেলা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের বিস্তির্ণ হাওরাঞ্চল।অথচ হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন বৈচিত্র্যময়!
হাওরের বুকে ভাসমান গ্ৰাম গুলো দেখলে মনে হয় এ যেন নীল জলরাশির বুকে এক স্বর্গ রাজ্য। কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে ৯৭টি হাওর রয়েছে। বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা কে প্রবেশদ্বার বলা হয় । এছাড়াও দেশের সবচেয়ে নিচু জেলা হিসেবেও পরিচিত। প্রতিবছর প্রায় অর্ধেক সময় পানিতে আবদ্ধ থাকে। হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন খুবই কষ্টদায়ক ও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। একেক সময় হাওরে ভিন্ন রুপ ধারণ করে ফলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বিভিন্ন সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণত বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায় । বাংলায় একটি জনশ্রুতি আছে, বর্ষায় নাও শুকনায় পাও অর্থাৎ বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচল করার উপায় নেই আর শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। যার ফলে নৌকা ছাড়া যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে।প্রতিবছর বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। অনেক গ্রামে চিকিৎসক থাকেন না। পানিবাহিত রোগ নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় সঠিক সময়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো যায় না। হাওরাঞ্চলের মানুষ অনেকেই দরিদ্র শ্রেণীর। যার কারণে অনেকের ব্যাক্তিগত নৌকা কেনার সামর্থ্য নেই । এর ফলে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যান। , বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত মারাত্মক অবস্থা। তাই দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোঃ শরীফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
