দ্রুত ড্রেন নির্মাণ করা হোক
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত পন্ডিতপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে যাওয়া রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে। উত্তরে বৈরাগীরহাট থেকে দক্ষিণে ফুলপকুরিয়া বাজারে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। এই রাস্তা দিয়ে আশেপাশে প্রায় বিশটি গ্রামের লোকজন প্রতিদিন দিন হাট-বাজার সহ নানা কাজে চলাচল করতে হয়। এছাড়াও এই গ্রামে রয়েছে একটি স্কুল(মাদ্রাসা) ও কলেজ। দূর দূরান্ত থেকে আগত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। মাদ্রাসার পাশে রয়েছে মসজিদ।
রাস্তার কি নির্মম পরিহাস সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনদরদী সমাজ সেবকদের কল্যাণে আজকে সেটি কয়েক বছর ধরে পানির নিচে। তাও আবার নোংরা পানি। মানুষের বসবাসের জায়গা এটি ভাবতেও কষ্ট হয়। এলাকা এবং বাহিরের আগন্তুকদের কষ্ট-দূর্ভোগের শেষ নাই। গ্রামের বাড়ি ঘর রাস্তা থেকে উচু হওয়া এবং ওই সমস্ত বাড়ির বৃষ্টির পানি,দৈনিক বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার কৃত পানি, মল-মূত্র রাস্তার উপর নেমে ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে জমা হয়ে থাকে। জমাটবদ্ধ এসব পানিতে মশা-মাছি, আবর্জনার স্তুপ, মল-মূত্র সহ বিষাক্ত বর্জ্য। বর্ষাকালে এসব প্রকট আকার ধারণ করে এসব নোংরা পানি রাস্তার উপর হাটু পর্যন্ত উচু হয়ে থাকে। ফলে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লী, স্কুল(মাদ্রাসা) কলেজের শিক্ষার্থী শিক্ষক, গ্রামবাসী এবং এলাকাবাসীদের নানা দূর্ভোগের শিকার হতে হয়।এ সমস্ত নোংরা পানি কাপড় ও শরীরে লাগার কারণে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লী নিয়মিত নামাজ এবং স্কুল(মাদ্রাসা) কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে। নোংরা পানির ভিতর দিয়ে চলাচলের ফলে লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে নানা পানিবাহিত রোগে।
গ্রামের মানুষ এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পদক্ষেপ নিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। বরং তৈরী হয়েছে পারিবারিক রেষারেষি, ক্ষমতাবানদের পেশিশক্তির ব্যবহার। কতিপয় মহলের রাস্তার সীমানায় অবৈধ স্থাপনা।পেশিশক্তির ক্ষমতাবলে অবৈধ ভাবে রাস্তার সীমানার উপর মাটি কেটে উচু করে রাখার কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া এবং গ্রামের ভিতর কোন ড্রেন না থাকায় এর মূল কারণ। রাস্তা টি পাকা হলেও গ্রামের ভিতরের পানি নিষ্কাশনের কোন ড্রেন না থাকায় এলাকায় মানুষদের চলাচল করতে হয় হাটু পানির মধ্যে দিয়ে। সব মিলিয়ে এ রাস্তার অন্তর্গত বিশটির ও বেশি গ্রামের মানুষ, স্কুল(মাদ্রাসা)কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পথযাত্রী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তাই জনসাধারণের মর্মান্তিক ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ে ড্রেন নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৯ মে ২০২১ তারিখে
ইত্তেফাক
পত্রিকায় প্রকাশিত।
