রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে চড়ুইভাতি

Author

মোঃ রুহুল আমিন , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২৪ পাঠ: ১৯ বার

সবুজ ছায়াঘন সুনির্মল প্রকৃতিতে শীত আসে, প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয় নতুন এক অধ্যায়ের। ধরা দেয় চারদিকে ঘন কুজ্ঝটিকায় ঘেরা নতুন এক উপমাহীন সৌন্দর্য। সূর্যের শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পূর্বেই সকাল ৯ টায়  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হাজির হলাম মফিজ লেকে। দক্ষিণের বিপরীত থেকে আসা মৃদু হাওয়া আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যে শীতের প্রাবল্য বাড়াতে শুরু করলো। এর কিছুক্ষণ পর কুজ্ঝটিকা ভেদ করে ফুটে উঠলো আলোকরশ্মি। সবুজ ঘাসের উপর জমে থাকা শিশির বিন্দুর চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছিলো। পাশেই সোনা ভরা ফসলের মাঠে কৃষকরা ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে কাজে ব্যাস্ত।

বলছিলাম আমাদের চড়ুইভাতির গল্প। যার শুরু হয়েছিলো বন্ধু মহলে আলোচনা মাধ্যমে। অনেকদিন হলো আলোচনা চলছিলো পরীক্ষা তো শেষ হলো সবাই মিলে একটা চড়ুইভাতির আয়োজন করা যাক। এটা নিয়ে বন্ধু বান্ধবের মধ্যে আলোচনা মাঝে একদিন ক্লাসে অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সাদাত স্যার আমাদের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। আমাদের মধ্যে কয়েকজন দায়িত্ব নিলেন সকল কাজ সুষ্ঠ ভাবে সম্পুর্ন করার জন্য। আগেরদিন অমিত, মেহেদী, তন্ময়, সাদিয়া, মীম এবং লায়লাসহ কয়েকজন মিলে আমাদের আয়োজনের সমস্ত বাজার শেষ করেছিলো। সোহেল ও জহির সকাল বেলা ডেকোরেশনের এবং রান্নার হাঁড়ি পাতিলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হলো। দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে আমরা সবাই কাজে লেগে পড়লাম। ছেলেরা রান্নার জিনিসপত্র ধোঁয়া এবং পানি আনার কাজে লেগে পরলো আর মেয়েরা বিভিন্ন কাটাকাটির কাজ করতে লাগলো। মেহেদী, মীম, সম্পাসহ কয়েকজন রান্না করতে লাগলো বাকিরা রান্নার সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন গান গাইতে, গানের তালে নৃত্য ও আড্ডা দিতে থাকে। অনেকেই বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ছেলেরা পাঞ্জাবী ও মেয়েরা শাড়ী পরে ছবি তুলতে ব্যাস্ত। দুপুরের খাবার নিদিষ্ট সময় হয়ে গেছে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় কুমার স্যারের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। চারদিকে পোলাও এবং রোস্টের ঘ্রাণে খাবারের তাড়না আরো বাড়তে লাগলো। আমাদের মাঝে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদ্বয় অধ্যাপক ড. মো. জাকারিয়া রহমান এবং ড. মুর্শিদ আলম স্যার উপস্থিত হয়ে  বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেছিলেন। অনেকই শিক্ষাকদের সাথে ছবি তুলে স্মৃতি হিসাবে নিজের কাছে আবদ্ধ রাখতে ব্যাস্ত। আমরা সবাই মিলে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের সাথে গ্রুপ ছবি তুলি। দুপুরের খাবার খাওয়া জন্য সবাই একসাথে বসে পড়ি। আমি, মামুন, মেহেদী, সজিব, অমিতসহ কয়েকজন খাবার বন্টনের কাজ করি। অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় কুমার স্যার আমাদের খোঁজ নেন যে আমারা যারা বন্টন করছি তাদের জন্য খাবার আছে কিনা। শিক্ষকরা আমাদের রান্নার ভূয়সী প্রসাংশা করে বলেন যে, তোমরা তো সুন্দর রান্না করেছো ভবিষ্যতে বড় রেস্টুরেন্ট দিয়ে দিতে পারবা। খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেয়েরা বালিশ এবং ছেলেরা ঝুড়িতে বল ফেলার খেলায় মেতে উঠি। খেলা শেষে আমাদের সর্বশেষ আকর্ষণ লটারির ড্র এবং খেলায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে কেটে যায় জীবনের সোনালী দিনগুলো। সবাই নিজের ভবিষ্যত তৈরী করতে দূরদূরান্ত থেকে পাড়ি জামিয়ে আসে। যেখান বন্ধু বান্ধব মিলে প্রতিদিন তৈরী হয় হাজারে স্মৃতি। কয়েক বছর নিজেরা একসাথে থাকার পর আবারো হয়তো যে যার মতো ছড়িয়ে পরবে আপন ঠিকানায়। কিন্তু বন্ধু বান্ধব সিনিয়র জুনিয়রের সাথে এই আড্ডা গুলো রয়ে যাবে স্মৃতির মনিকোঠায়।

লেখক: সভাপতি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদ।
এই লেখাটি ২ মার্চ ২০২৪ তারিখে যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।