বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

তারুণ্যের স্বপ্নে নতুন বাংলাদেশ প্রয়োজন বাস্তবমুখী উদ্যোগ

Author

জান্নাত আক্তার শিলা , ইডেন মহিলা কলেজ

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ৩ বার

তারুণ্যের স্বপ্নে নতুন বাংলাদেশ: প্রয়োজন বাস্তবমুখী উদ্যোগ ও প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ
তরুণ সমাজের হাত ধরে একটি দেশের ভবিষ্যত অনেকাংশে নির্ধারিত হয়। যেকোনো দেশের মূল চালিকাশক্তি তরুণসমাজ। অপার সম্ভাবনাময় তরুণসমাজকে বাদ দিয়ে কোনো দেশ সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ৪ কোটি ৫৯ লাখ। দেশের মোট জনসংখ্যার ঠিক ২৭.৯৬% অর্থাৎ প্রায় ২৮ শতাংশ বা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩ জনই তরুণ। দেশের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে তরুণ প্রজম্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের সংকট ও অস্থিতিশীল সময়ে তরুণ সমাজ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণরাই দেশের সংকট মুহুর্তে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি-ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে জুলাই গনঅভ্যুত্থান পর্যন্ত। ২০২৪ সালের জুলাই গনঅভ্যুত্থানে তরুণরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে এক নতুন স্বাধীন, বৈষম্য ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই স্বপ্ন রুপায়নে প্রয়োজন বাস্তব কর্মমুখী উদ্যোগ ও তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনের সম্ভবনা তৈরি করে দেওয়া। নিন্মোক্ত কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তরুণ সমাজ সঠিক পদ্ধতিতে কাজে লাগানো সম্ভব। প্রথমত, দেশ পুনর্গঠনের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো মেধাভিত্তিক ও কর্মমুখী বাস্তব উদ্যোগ। দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বছরের পর বছর কেবল সার্টিফিকেটধারী বেকার তৈরি হচ্ছে ।শিক্ষিত বেকারদের এই অভিশাপ থেকে  মুক্তি দিতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয় জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তরুণরা চাকরি খুঁজবে না বরং চাকরি সৃষ্টি করবে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা এবং প্রশিক্ষন কেন্দ্র তৈরি করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে কোটা প্রথার অপব্যবহার এবং দলীয়করণের কারণে দেশের হাজার হাজার যোগ্য তরুণ বঞ্চিত হয়েছে যার ফলে তীব্র মেধা পাচার বা ব্রেন ড্রেন ঘটছে। হিউম্যান ফাইট অ্যান্ড ব্রেন ড্রেন ইনডেক্স প্রতিবেদনে ২০২৪-২০২৬ সালের বৈশ্বিক সূচকে ১০ এর স্কেলে বাংলাদেশের মেধা পাচারের স্কোর ৬.৭ পয়েন্ট যা বৈশ্বিক গড় (৪.৯৮) থেকে অনেক ওপরে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্তত ৫৭টি দেশে পাড়ি জমাচ্ছে এবং তাদের ৯০% আর দেশে ফিরছে না। দেশ পুনর্গঠনে এই মেধাবীদের দেশেই দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা অপরিহার্য। তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সেবাগুলোকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা পেপারলেস করা জরুরি। দেশের প্রযুক্তিগত দক্ষ তরুণদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় ইনোভেশন হাব বা উদ্ভাবন কেন্দ্র তৈরি করা। এর মাধ্যমে তরুণরা সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে মোবাইল অ্যাপ, এআই টুল এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স তৈরি করবে যা দুর্নীতি দূর করতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। চর্তুথত, শুধু কেন্দ্র বা ঢাকাভিত্তিক সংস্কার নয় বরং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারের বাজেট প্রণয়ন, উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে ওএমএস বা ত্রাণ বিতরণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই কাউন্সিলকে আইনি ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে। এতে তৃণমূল থেকেই সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। পঞ্চমত, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় তরুণদের সমন্বয়ে গ্রিন ভলান্টিয়ার্স বাহিনী গঠন করা যেতে পারে। নদী ভাঙন রোধ, বনায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সোলার বা বায়োমাস খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি লাখ লাখ গ্রিন জবের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। বাস্তব উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ। গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের ক্যাম্পাস ও তরুণ সমাজকে গ্রাস করেছিল নোংরা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, মাদক এবং চাঁদাবাজি। সুস্থ পরিবেশের অনুপস্থিতিতে তরুণদের সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা উগ্রবাদ বা হতাশার দিকে ধাবিত হয়। এছাড়াও রাষ্ট্র পরিচালনায় ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।তরুণদের শুধু ভোটার বা শ্রমশক্তি হিসেবে না দেখে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। যুব নীতি প্রণয়নে তরুণদের মতামত নেওয়া, স্থানীয় সরকারে তরুণ প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং বাজেটে যুব উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের পূর্বশর্ত। তরুণদের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি, বৈশ্বিক জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। দেশ পুনর্গঠন রাতারাতি সম্ভব নয় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। আর এটি কেবল সরকার বা কোনো এক পক্ষের একার সম্ভব নয়। তরুণদের উদ্যম, সৃজনশীলতা আর সাহসকে যদি বাস্তব সুযোগ ও সুস্থ পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা যায় তবেই দেশে ক্রমশ দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনে রূপ নিবে। তরুণদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দেশ উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।সরকার, প্রবীণ ও তরুণসমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিতই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।
জান্নাত আক্তার শিলা
রসায়ন বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।
লেখক: সদস্য, ইডেন মহিলা কলেজ।
এই লেখাটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আজকালের খরব পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।